বৃহস্পতিবার , ১৩ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ১৩ আগস্ট ২০২৬
হোমতথ্যপ্রযুক্তিবাংলা কিউআর চালু হচ্ছে ১ জুলাই, ডিজিটাল লেনদেনে আসতে পারে বড় পরিবর্তন

বাংলা কিউআর চালু হচ্ছে ১ জুলাই, ডিজিটাল লেনদেনে আসতে পারে বড় পরিবর্তন

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
বাংলা কিউআর চালু হচ্ছে ১ জুলাই, ডিজিটাল লেনদেনে আসতে পারে বড় পরিবর্তন

দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করতে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ জুলাই থেকে সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হবে এই একীভূত কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলা কিউআর চালু হলে দেশের আর্থিক লেনদেনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। একটি অভিন্ন কিউআর কোডের মাধ্যমে শপিং মল থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফুটপাতের দোকানদার ও বিভিন্ন সেবাদাতারাও ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।


বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যেই বাংলা কিউআরকে একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে কম খরচে সহজে লেনদেনের সুযোগ।


বর্তমানে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণের জন্য অনেক ক্ষেত্রে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের প্রয়োজন হয়, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যয়বহুল। তবে বাংলা কিউআর ব্যবহারে শুধু একটি কিউআর স্টিকারই যথেষ্ট হবে। ফলে ছোট ব্যবসায়ীরাও সহজে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসতে পারবেন।


নিরাপত্তার দিক থেকেও বাংলা কিউআরকে কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ থেকেই সরাসরি অর্থ পরিশোধ করা যাবে। ফলে কার্ড ক্লোনিং বা পিন চুরির মতো ঝুঁকি কমবে।


বাংলা কিউআরের কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে আহ্বায়ক করে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।


বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ আরও সহজে আর্থিক সেবা নিতে পারবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলা কিউআর চালু হলে দেশের অর্থনীতি আরও বেশি ক্যাশলেস ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয় পক্ষই এতে সুবিধা পাবেন।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই হবে না; এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন। ডিজিটাল নিরাপত্তা, ব্যবহারবিধি এবং আর্থিক সচেতনতা বাড়ানো গেলে বাংলা কিউআর দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।


ব্যবসায়ীরাও একটি অভিন্ন কিউআর ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানের কিউআর ব্যবহারের পরিবর্তে একটি কোডে সব ধরনের পেমেন্ট গ্রহণ করা গেলে লেনদেন আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে।