শুক্রবার , ০২ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার , ০২ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা, বাড়ছে রোহিঙ্গা সংকটের চাপ

কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা, বাড়ছে রোহিঙ্গা সংকটের চাপ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা, বাড়ছে রোহিঙ্গা সংকটের চাপ

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া বড় ঢলের পর গত প্রায় দেড় বছরেও সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে আরও প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।


বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য জাতিসংঘের নেতৃত্বে পরিচালিত জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) প্রতিবছর আন্তর্জাতিক সহায়তা সংগ্রহ করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ খাতে অর্থায়ন ধারাবাহিকভাবে কমছে। চলতি বছরের জন্য ৭১০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও, তা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম।


জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর বাংলাদেশের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নিজমান বলেন, ২০১৭ সালের মতো এখনও অনেক রোহিঙ্গা নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় শরণার্থী শিবিরে বসবাসরতদের জীবনযাপনও কঠিন হয়ে উঠেছে। দ্রুত প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাও অনিশ্চিত থাকায় সংকট মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।


বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৭ সালের পর গাজা, সুদান ও ইউক্রেনের মতো বড় আন্তর্জাতিক সংকট সামনে আসায় বৈশ্বিক মনোযোগ ও অর্থায়নের একটি বড় অংশ সেদিকে চলে গেছে। ফলে রোহিঙ্গা সংকটের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আগের তুলনায় কমে এসেছে।


এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য ও আবাসনসহ মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নতুন দায়িত্ব রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত বছর যে পরিমাণ আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রায় অর্ধেক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে শরণার্থী শিবিরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশ অব্যাহত থাকায় সীমিত অর্থায়নের মধ্যে খাদ্যসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।