শুক্রবার , ০২ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার , ০২ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › জুলাই অভ্যুত্থান: শেখ হাসিনার গোপন যোগাযোগ নেটওয়ার্কের তথ্য প্রকাশের দাবি

জুলাই অভ্যুত্থান: শেখ হাসিনার গোপন যোগাযোগ নেটওয়ার্কের তথ্য প্রকাশের দাবি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
জুলাই অভ্যুত্থান: শেখ হাসিনার গোপন যোগাযোগ নেটওয়ার্কের তথ্য প্রকাশের দাবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক টিম জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবহৃত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।


তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকলেও গণভবনে বিশেষ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট চালু ছিল। ফরেনসিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের ব্যাকআপ সংযোগ ব্যবহার করে সেখানে ইন্টারনেট সচল রাখা হয়েছিল এবং গণভবনের ছাদে বিশেষ টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামও স্থাপন করা হয়েছিল।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে এমন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, যা গণভবনে বিশেষায়িত ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।


তদন্তে আরও দাবি করা হয়, ১ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুধাবন করে শেখ হাসিনা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ শুরু করেন। ৩ আগস্ট এক দফা আন্দোলনের ঘোষণার পর তার ব্যবহৃত ফোন থেকে অন্তত ৭০টি নম্বরে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১টি নম্বরের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভুয়া বা অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত ছিল বলে ফরেনসিক টিমের দাবি।


তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলে শেখ হাসিনা বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে স্যাটেলাইট ফোন এবং গণভবনের কয়েকজন কর্মীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন। একই সময় তিনি স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাময়িক আশ্রয়ের বিষয়েও আলোচনা করেন বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, এসব তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।