সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়প্রধান উপদেষ্টার কাছে বিএনপির চিঠি: নির্বাচনের রোডম্যাপ ও বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি

প্রধান উপদেষ্টার কাছে বিএনপির চিঠি: নির্বাচনের রোডম্যাপ ও বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
প্রধান উপদেষ্টার কাছে বিএনপির চিঠি: নির্বাচনের রোডম্যাপ ও বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি

বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন, মানবিক করিডর ইস্যু এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা—এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি বিস্তারিত চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

চিঠিটি স্বাক্ষর করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শনিবার (২৪ মে) এটি গণমাধ্যমে আসে।

চিঠিতে বিএনপি বলেছে, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের প্রতিষ্ঠাই এখন জনগণের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একইসঙ্গে দলটি অভিযোগ করেছে, সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সরকারের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে। এসব বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অব্যাহতির দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১৬ বছর ধরে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে ‘ফ্যাসিবাদ পতন’ ঘটে। সেই প্রেক্ষাপটে একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় জনগণের প্রত্যাশায়। তবে গত সাড়ে ৯ মাসে সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে বিএনপি।
সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, সাম্প্রতিক কিছু কার্যক্রম সরকারের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে। বিএনপির দাবি, সরকারের পরিকল্পনা যেন কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার না হয়, সেদিকে সচেতন থাকা দরকার ছিল।
বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি

চিঠিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে বলা হয়, তারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, যা সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকেও অব্যাহতির আহ্বান জানানো হয়েছে।
মানবিক করিডর ও চট্টগ্রাম বন্দর ইস্যু

বিএনপির মতে, মানবিক করিডর ও চট্টগ্রাম বন্দর সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। এসব বিষয়ে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
ইশরাক হোসেনের শপথ ও নির্বাচন কমিশন ইস্যু

চিঠিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিএনপি বলেছে, নির্বাচন কমিশনের কাজ জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা। সেই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের ঘেরাও কর্মসূচিকে উদ্দেশ্যমূলক ও রহস্যজনক বলে অভিহিত করেছে দলটি।
নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি

চিঠিতে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হয়। বলা হয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠাই হবে এখনকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
সরকারকে সহযোগিতা নিয়ে সতর্ক বার্তা

চিঠির শেষভাগে বিএনপি জানায়, বারবার পরামর্শ উপেক্ষিত হলে সরকারের প্রতি দলটির সহযোগিতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

সর্বশেষে বিএনপি প্রত্যাশা করেছে, দেশের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার যেন জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করে।