রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে, ইউনূসের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তুঙ্গে
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে একটি নিয়মিত বৈঠকে মিলিত হন। যদিও এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত, তবে বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয় যখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষমতার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একাধিক সরকারি কর্মকর্তার বরাতে আল–জাজিরা জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিকে অনেকেই অন্তর্বর্তী প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে 'স্নায়ু যুদ্ধ' হিসেবে দেখছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে গণবিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। তাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ইউনূসের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও, শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, ইউনূস এখনো দায়িত্বে রয়েছেন এবং পদত্যাগের কোনো ঘোষণা দেননি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে। যদিও আগস্টের মাঝামাঝি পুলিশ আবার দায়িত্বে ফেরে, রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটেনি বলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত আছে।
সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের সমাবেশে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “নির্বাচিত সরকার ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য, পুলিশের ভূমিকা পালনের জন্য নয়। নির্বাচন শেষে আমাদের ব্যারাকে ফিরতে হবে।”
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সম্পর্ক উত্তপ্ত। বিএনপি দৃঢ়ভাবে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চায় এবং কিছু নির্দিষ্ট দাবিও জানিয়ে আসছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০২০ সালের ঢাকার সিটি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে পরাজিত তাদের প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে পুনর্বহালের দাবি।
এছাড়া, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও কয়েকটি ছাত্র সংগঠন নির্বাচনপূর্ব সংস্কার ও পূর্ববর্তী দমন-পীড়নের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করছে।
বৃহস্পতিবার বিএনপির এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করা হয়।
স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইউনূস ওইদিন বিকেলে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে, এনসিপি প্রধান ও জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানান। পরে বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, ইউনূস সত্যিই পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন।শুক্রবার সন্ধ্যায় আল–জাজিরাকে প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, ইউনূস এখনো তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।