সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা—সংকট সমাধানে চাবিকাঠি এখন সরকারের হাতে

নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা—সংকট সমাধানে চাবিকাঠি এখন সরকারের হাতে

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা—সংকট সমাধানে চাবিকাঠি এখন সরকারের হাতে

দেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা ও মতবিনিময়ের পরেও এখনো পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি। এ অবস্থাকে দেশের বিশ্লেষকরা দেখছেন এক জটিল সংকটের ইঙ্গিত হিসেবে, যেখানে এখন "বল সরকারের কোর্টে।"

🔹 সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় ও রোডম্যাপ দাবি করে ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রায় সব দলই চায়, বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হোক, তবে সেটি যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়।

বিশেষ করে বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়, এনসিপি জুলাই ঘোষণাপত্র ও ‘জুলাই গণহত্যার’ বিচার বাস্তবায়নের দাবিতে অনড়। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিলেও, তাদেরও সংস্কার ও বিচার সংক্রান্ত দাবি রয়েছে।

🔹 প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান ও সংকট

সব বৈঠকের পরেও প্রধান উপদেষ্টা এখনো পর্যন্ত "ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন"—এই সাধারণ বক্তব্যেই আটকে রয়েছেন। এতে করে রাজনৈতিক দলগুলো হতাশ এবং জনগণের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। এ ধরনের অনির্দিষ্ট অবস্থানকে অনেকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখলেও, বাস্তবে তা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট নির্বাচনী সময় ঘোষণাই এখন সংকট নিরসনের মূল চাবিকাঠি। সরকারের দ্বিধাদ্বন্দ্বমূলক অবস্থান শুধু রাজনৈতিক দলগুলোকেই নয়, সাধারণ মানুষকেও অনিশ্চয়তায় ফেলছে।

🔹 বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, "যদি তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন দিতে পারে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার কেন ডিসেম্বরেই নির্বাচন দিতে পারবে না?" তিনি মনে করেন, ‘ডিসেম্বর থেকে জুন’—এই দীর্ঘ সময়ের কথা বলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সুনির্দিষ্ট মাস উল্লেখ না করলে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থার উপর। অথচ সরকার তা বুঝতে পারছে না, বরং নিজে নিজেই কাজ সম্পন্ন করতে চাচ্ছে। এটা রাজনৈতিকভাবে ভুল কৌশল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরেক বিশ্লেষক, সাবেক সচিব আবু আলম শহিদ খান বলেন, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এ সংকটের সমাধান অসম্ভব। প্রত্যেক পক্ষকে কিছুটা ছাড় দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে হবে। তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় খেলোয়াড় সরকার, তাই তাদের দিক থেকেই অগ্রগতি দেখতে চায় দেশবাসী।”

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্পষ্ট হচ্ছে, এখনকার সংকট নির্বাচনের সময় নির্ধারণ ও নির্বাচনী রোডম্যাপ সংক্রান্ত একটি বিশ্বাসযোগ্য ঘোষণার অভাবে তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করলেও সরকার এখনো দ্বিধান্বিত। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে আগামী দিনে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

এখন সময় সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার—একমাত্র একটি গ্রহণযোগ্য রোডম্যাপই পারে এই সংকট নিরসন করতে এবং গণতন্ত্রের পথে জাতিকে এগিয়ে নিতে।