সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বযুক্তরাষ্ট্রে ২২৭ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ব্যক্তি গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্রে ২২৭ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ব্যক্তি গ্রেফতার

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে ২২৭ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ব্যক্তি গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্রে ২২৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থমূল্যের মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ব্যক্তি আইনি ঝামেলায় পড়েছেন। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—সাইয়েদ মুরতুজা কাবলাজাদা (৩৪) ও সাইয়েদ মেহেদী হুসাইন (৩২)। তারা দুজনই ইলিনয়ের বাসিন্দা।

মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ, তারা একাধিক ভুয়া মেডিকেল ল্যাবরেটরির মাধ্যমে কোভিড-১৯ পরীক্ষার নামে ভুয়া বিল দাখিল করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তারা বিদেশি নাগরিকদের নাম ব্যবহার করে ল্যাবগুলোতে ভুয়া মালিক বসিয়েছিলেন যেন তদন্তের সময় তারা দেশ ছেড়ে পালাতে পারে।

বিচার বিভাগের অপরাধ বিভাগের প্রধান ম্যাথিউ আর. গ্যালিওটি জানান, এই দুই ব্যক্তি একাধিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া মেডিকেয়ার বিল দাখিল করেছেন। অনেক ক্ষেত্রেই কোনো টেস্ট কিট সরবরাহ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে, এমনকি মৃত ব্যক্তিদের নামেও দাবি করা হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে তাদের পরিচালিত ল্যাবরেটরিগুলো মেডিকেয়ার এর কাছে মোট ২২৭ মিলিয়ন ডলারের বিল দাখিল করে, যার মধ্যে প্রায় ১৩৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধও করা হয়েছে।

কাবলাজাদা ও হুসাইনের বিরুদ্ধে বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

এফবিআই শিকাগো অফিস ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস-ওআইজি) যৌথ তদন্তে উঠে আসে জালিয়াতির বিস্ময়কর মাত্রা। এফবিআই-এর শিকাগো অফিসের বিশেষ এজেন্ট ডগলাস এস. ডিপোডেস্টা বলেন, “এই জালিয়াতি শুধু মেডিকেয়ার নয়, পুরো মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর আস্থা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।”

তবে এখনো আদালতে এই অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি। বিচার বিভাগ জানায়, অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। মামলাটি পরিচালনা করছেন বিচার বিভাগের জালিয়াতি শাখার ট্রায়াল অ্যাটর্নি আন্দ্রেস কিউ আলমেন্দারেজ এবং সহায়তা করছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস অ্যাটর্নি জাসমিনা ভাইজোভিচ।