সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বশান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বাধা, শীতল যুদ্ধের মানসিকতা উস্কে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: চীন

শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বাধা, শীতল যুদ্ধের মানসিকতা উস্কে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: চীন

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বাধা, শীতল যুদ্ধের মানসিকতা উস্কে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: চীন


সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা নিরাপত্তা সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চীনকে 'হুমকি' হিসেবে আখ্যায়িত করে 'অপমানজনক' মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেছে বেইজিং। রোববার (১ জুন) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এই তথ্য উঠে এসেছে।


চীনের দাবি, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্মেলনে চীনকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য একটি "বাস্তব হুমকি" হিসেবে তুলে ধরেছেন। বেইজিং বলছে, এই বক্তব্য ‘অপমানজনক’ এবং ‘বিভাজনের বীজ বপণের ইঙ্গিত’ বহন করে।


চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, হেগসেথ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বানকে অগ্রাহ্য করে শীতল যুদ্ধের মনোভাব উস্কে দিয়েছেন। এতে ব্লক রাজনীতির পুনরুত্থান ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের সামরিক উপস্থিতি ক্রমাগত বাড়াচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলকে সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”


সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ তার মিত্র দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “চীনের সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুতি থাকা জরুরি।” এ সময় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানান, প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি এক হাজার কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।


উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপিন্সের লুজন দ্বীপে অত্যাধুনিক টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার মোতায়েন করেছে, যা চীন ও রাশিয়ার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম।


দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপ ও প্রবালপ্রাচীর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও ফিলিপিন্সের মধ্যে বিরোধ চলছে। পাশাপাশি, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আগুন নিয়ে না খেলতে’ সতর্ক করে চীন। মার্কিন মন্ত্রী হেগসেথ বলেন, “তাইওয়ানকে দখলের যে কোনো চেষ্টা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে।”


শাংরি-লা সম্মেলনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা প্রধান, সামরিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা অংশ নেন, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামরিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়।