তামাকপণ্যে কর না বাড়ালে বাড়বে মৃত্যু, কমবে রাজস্ব: অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা
তামাকপণ্যের দাম ও করহার অপরিবর্তিত রেখে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে দেশে তামাক ব্যবহারের হার ও তামাকজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাবে, আর রাজস্ব আয় হ্রাস পাবে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও তামাকবিরোধী নেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স—আত্মা—এই উদ্বেগ প্রকাশ করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরের মূল্য না বাড়ানোয় ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামের পণ্য বেছে নিতে পারছেন, ফলে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে। পাশাপাশি বিগত ৬ বছর ধরে বিড়ির দাম ও কর অপরিবর্তিত থাকায় এই খাতে লাভজনক অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য, বিশেষত দরিদ্র ও নারী জনগোষ্ঠী।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় ১১.৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে—একই সময়ে নিত্যপণ্যের দাম যেমন চাল, ডিম, সয়াবিন তেল, রুই মাছ ও কাগজের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে তামাকপণ্যের দাম না বাড়ায় এসব পণ্য আগের চেয়ে তুলনামূলক সস্তা হয়ে পড়ছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত বলেন, কর কাঠামোর জটিলতার কারণে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরের মধ্যে পার্থক্য কমে গেছে। ফলে ভোক্তা সহজেই স্তর পরিবর্তন করে ধূমপান চালিয়ে যেতে পারছে। তিনি এই দুই স্তর একীভূত করে মোট স্তরসংখ্যা ৪ থেকে ৩-এ নামিয়ে আনার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫–২৬ সালের চূড়ান্ত বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য তামাকবিরোধী নেতারা যেসব প্রস্তাব দেন, তা হলো:
নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৯০ টাকা নির্ধারণ
উচ্চ স্তরে ১৪০ টাকা ও প্রিমিয়াম স্তরে ১৯০ টাকা নির্ধারণ
ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির মূল্য ২৫ টাকা, ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকার জন্য ২০ টাকা
জর্দার জন্য প্রতি ১০ গ্রাম ৫৫ টাকা এবং গুলের জন্য ৩০ টাকা
সব তামাকপণ্যে ১৫% ভ্যাট ও ১% স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখা
প্রজ্ঞা ও আত্মা জানায়, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সরকার অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ১৭ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে ৯ লাখ তরুণ ধূমপান শুরুর হাত থেকে রক্ষা পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আত্মার কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো–কনভেনর মিজান চৌধুরী, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, এবং প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার, যিনি প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।