রবিবার , ১৬ আগস্ট ২০২৬
রবিবার , ১৬ আগস্ট ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসাবন্ধ চিনিকল চালু করে উৎপাদন বাড়ানো হবে: বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান

বন্ধ চিনিকল চালু করে উৎপাদন বাড়ানো হবে: বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
বন্ধ চিনিকল চালু করে উৎপাদন বাড়ানো হবে: বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান

দেশের বন্ধ থাকা সরকারি চিনিকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করে উৎপাদন বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামছুজ্জামান সুরুজ।


সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব কারখানার কার্যক্রম সচল রাখার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে দেশের ১৫টি সরকারি চিনিকলের মধ্যে ৬টির মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তবে এসব মিলের আওতাধীন এলাকায় আখ চাষ অব্যাহত আছে। পর্যায়ক্রমে বন্ধ মিলগুলোকে পূর্ণ উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।


তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিএসএফআইসি কাজ করছে। বন্ধ চিনিকলগুলো চালু হলে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।


চিনিকলের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, চিনিকল শুধু চিনি উৎপাদনের কেন্দ্র নয়; লাখো আখচাষির জীবিকা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং স্থানীয় উন্নয়নের সঙ্গেও এগুলো সরাসরি যুক্ত। এসব মিলের আওতায় হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় রাস্তাঘাট উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা হচ্ছে।


জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় জ্বালানি ব্যবহার করে কারখানা পরিচালনা করলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হতো। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এ ব্যয় কমানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে আখের ছোবড়া বা ব্যাগাস ব্যবহার করে ‘কো-জেনারেশন’ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।


সরকারি চিনিকলের লোকসানের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ঋণের সুদ ও ‘ট্রেড গ্যাপ’ লোকসানের অন্যতম কারণ। বেসরকারি খাত অনেক ক্ষেত্রে সুদ মওকুফের সুবিধা পেলেও সরকারি চিনিকলগুলো সেই সুবিধা যথাযথভাবে পায় না। এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন করা হবে।


তার দাবি, ঋণের সুদ ও শুল্কের বিষয়টি বাদ দিলে বিএসএফআইসির প্রকৃত লোকসান তেমন নেই। গত অর্থবছরেই করপোরেশন সরকারকে প্রায় ২১৩ কোটি টাকা আবগারি শুল্ক, কর ও ভ্যাট দিয়েছে।


লোকসান কমাতে নতুন নতুন বাই-প্রোডাক্ট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আখচাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম ও প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে।


বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, গত অর্থবছরে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২৫ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাষিদের প্রণোদনার পরিমাণ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ কোটি টাকা করা হয়েছে।