চাল-সবজিতে ভোক্তার বোঝা বাড়ছে, কমেছে কেবল মুরগির দাম
বোরো মৌসুমের মাঝামাঝি হলেও চালের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল, নয়াবাজার এবং কেরানীগঞ্জের আগানগর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে চালের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত। সরু চালে বৃদ্ধি বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, মূল্যে হঠাৎ এই উর্ধ্বগতি ঈদের পর থেকেই শুরু।
চালের সরবরাহ ঠিক থাকলেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে মনিটরিংয়ের ঘাটতি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই মূল্য বাড়ছে।
মিনিকেট ও নাজিরশাইলের কেজি প্রতি দাম এখন ৮০-৯০ টাকা, গুটি স্বর্ণা ৫৪ টাকা, পাইজাম ৬২ টাকা ও আটাইশ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোলাও চাল ছুঁয়েছে ১১৮ টাকা।
একই সময়ে, খুচরা বাজারে সবজির দামও অনেকটাই ঊর্ধ্বমুখী। বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন অঞ্চলে সবজি ক্ষেত প্লাবিত হওয়ায় সরবরাহ কমেছে বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা।
বর্তমানে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা কেজিতে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা এবং ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজিতে, যা এক সপ্তাহে বেড়েছে ১৫০ টাকা।
তবে একমাত্র স্বস্তির খবর—মুরগির বাজারে।
ব্রয়লার এখন ১৫০ টাকা কেজি, সোনালি ২৮০-৩০০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৬৫০ টাকা কেজিতে।
গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে—গরুর মাংস ৭৮০ টাকা, খাসি ১২০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, আদা ও রসুনের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। দেশি আদা এখন ১২০-১৮০ টাকা, রসুন ১১০-১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি পেঁয়াজ এখনও ৫০-৬০ টাকায় রয়েছে।
ভোক্তাদের দাবি, নিয়মিত বাজার তদারকি ও শক্তিশালী নজরদারি চালানো না হলে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা কমবে না।
তাদের কথায়, "নিয়মিত অভিযান আর কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া চালবাজি আর সবজির দামে লাগাম আসবে না।"