মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসামূল্যস্ফীতির চাপে হাঁসফাঁস জনগণ, রাজস্ব ঘাটতিতে সরকার

মূল্যস্ফীতির চাপে হাঁসফাঁস জনগণ, রাজস্ব ঘাটতিতে সরকার

favicon
অনলাইন সংস্করণ
মূল্যস্ফীতির চাপে হাঁসফাঁস জনগণ, রাজস্ব ঘাটতিতে সরকার

দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন আয় ও ব্যয়ের হিসাব নিয়ে গোলকধাঁধায় আটকে পড়েছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি হয়ে পড়েছে। যদিও সরকারি হিসেবে বলা হচ্ছে, খাদ্যে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে।


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশে। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ।


তবে তথ্য যাই বলুক, বাস্তবে বাজারে গিয়ে চাল, ডাল, সবজি ও মাছ কিনতে গিয়ে নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সেবামূল্য বৃদ্ধিও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।


ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম ৪ শতাংশ, পেঁয়াজের দাম ৯ শতাংশ বেড়েছে। সবজি ও মাছের দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।


অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, “দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ ভালো নেই। অর্থনীতি স্থবিরতার দিকে যাচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিকে অর্থনীতির ভালো অবস্থা বলা যাবে না।”


অন্যদিকে অবকাঠামোগত সমস্যা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতি, ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে উৎপাদন বাড়ছে না। ফলে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে পিছিয়ে পড়ছেন।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আন্দোলনের কারণে গত জুন মাসে রাজস্ব আদায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বিঘ্নিত হয়েছে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও ব্যাহত হয়।


এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ। এতে নতুন করে রপ্তানি বাণিজ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি শুল্ক হার নির্ধারণ করায় তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে স্পিনিং, টেক্সটাইল ও ফেব্রিক প্রস্তুতকারীদের উৎপাদন ক্ষমতা কমে গেছে।


এদিকে প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পাওনা বাদে ২৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। আর মোট রিজার্ভ রয়েছে ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।


তবে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে রিজার্ভ ধরে রাখার কৌশল কতটা স্থায়ী হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


দেশের অভ্যন্তরীণ আয়ও বাড়ছে না। গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ৯৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঘাটতি।


এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, “গত ১০ বছর ধরেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। অথচ অর্থনীতিতে সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং লোকবল সংকটের কারণে রাজস্ব আদায়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না।”


অন্যদিকে দেশের পুঁজিবাজারেও স্বস্তি নেই। অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।