সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা অব্যাহত রাখবে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা অব্যাহত রাখবে বিশ্বব্যাংক

favicon
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা অব্যাহত রাখবে বিশ্বব্যাংক

দক্ষিণ এশিয়ার জন্য নবনিযুক্ত বিশ্বব্যাংক উপ-সভাপতি জোহানেস জুট ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রোববার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির প্রতি বিশ্বব্যাংকের জোরালো সমর্থনের কথা জানান জোহানেস জুট। তিনি অর্থনৈতিক খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করেন।

জোহানেস জুট বলেন, "বাংলাদেশ এগোলে পুরো দক্ষিণ এশিয়া এগোবে। আলাদা আলাদা থেকে কারও অগ্রগতি সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। আমাদের মহাসাগর আছে, এটিও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।"

তিনি জানান, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের প্রতি তার গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

বৈঠকে তিনি আরও বলেন, "বিশ্বের অনেক দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী কমে যাচ্ছে। তাই শিল্পকারখানা বাংলাদেশে সরিয়ে আনতে বিশ্বব্যাংক প্রণোদনা দিচ্ছে। আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত, যাতে বাংলাদেশ বিশ্বমানের উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হয়।"

নারী ক্ষমতায়নে অধ্যাপক ইউনূসের ভূমিকারও প্রশংসা করেন জুট। তিনি বলেন, "বাংলাদেশে মেয়েদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি চালু করেছিল বিশ্বব্যাংক, যা এখন অন্য দেশেও অনুসরণ করা হচ্ছে। তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরিতে আমরা আরও সহযোগিতা করবো।"

তিনি জানান, গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করেছে। আগামী তিন বছরেও একই ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, নতুন পরিচালন ব্যবস্থায় এনসিটির কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে নিট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগেও (এফডিআই) ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যার পেছনে মূলত ইন্ট্রা-কম্পানি ঋণ এবং শক্তিশালী ইকুইটি বিনিয়োগ দায়ী।