সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যে কমছে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার আগ্রহ—জাতিসংঘ জরিপ

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যে কমছে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার আগ্রহ—জাতিসংঘ জরিপ

favicon
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যে কমছে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার আগ্রহ—জাতিসংঘ জরিপ

পেশাগত চাপ, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি আকাঙ্ক্ষার কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের তরুণদের মধ্যে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার প্রবণতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।


জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউ গভ (YouGov)-এর যৌথ জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য। ১৪টি দেশের ১৪ হাজার তরুণ এই জরিপে অংশ নেন।


বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৫ উপলক্ষে সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই চিত্র তুলে ধরা হয়।


জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অনেক তরুণই একাধিক সন্তান নিতে চাইলেও বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি তরুণ পছন্দমতো সন্তান নিতে পারেননি। প্রতি চারজনের একজন সময়মতো সন্তান নিতে চেয়েও পারেননি। ফলে ৪০ শতাংশ তরুণ ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিতে বাধ্য হয়েছেন।


এছাড়া জরিপে দেখা গেছে—


১৩ শতাংশ তরুণ অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের পরও সন্তান নিতে পারেননি।


১৪ শতাংশ তরুণ উপযুক্ত সঙ্গীর অভাবে সন্তান গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন।


১৮ শতাংশ তরুণের পরিবার পরিকল্পনা বা প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নেই।


অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, "ক্ষমতায়নের জন্য অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা প্রয়োজন। তরুণদের প্রস্তুত করতে শিক্ষা, সচেতনতা ও সহায়ক পরিবেশ জরুরি।"


তিনি আরও বলেন, "সমতা অর্জন ছাড়া একটি ন্যায্য বিশ্ব গড়া সম্ভব নয়। এজন্য বাধাগুলোকে অতিক্রম করতে হবে।"


স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, "তরুণরাই জাতির ভবিষ্যৎ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির বিকাশের যুগে তরুণদের প্রস্তুত হতে হবে।"


স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন জানান, বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৮২৩ কোটি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫৬ সালে এটি ১০০০ কোটিতে পৌঁছাবে এবং ২০৯৮ সালে তা কমতে শুরু করবে।


তিনি জানান, প্রতিদিনই বিপুল হারে শিশু জন্মগ্রহণ করছে, তবে একই সঙ্গে মৃত্যুহারও বেড়েছে। গত পাঁচ মিনিটে বিশ্বে জন্ম নিয়েছে ১২৫০ শিশু, আর মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১০০০ জনের।


অনুষ্ঠানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ স্বাগত বক্তব্য দেন। অতিরিক্ত সচিব জোবায়দা বেগম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।


সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারী। শেষে ১০টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানকে সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।