সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল দেশ, হেলিকপ্টার থেকেও ছোড়া হয় গুলি

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল দেশ, হেলিকপ্টার থেকেও ছোড়া হয় গুলি

favicon
অনলাইন সংস্করণ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল দেশ, হেলিকপ্টার থেকেও ছোড়া হয় গুলি

চব্বিশের ১৯ জুলাই। ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেদিন রূপ নেয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে। সারাদেশে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ জনে। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর ডাক দিয়ে উত্তাল হয়ে উঠে সাধারণ মানুষ। স্বৈরাচার সরকারও আন্দোলন দমনে নেয় কঠোর ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের দেয়া হয় সর্বোচ্চ নির্দেশনা। এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও চালানো হয় গুলি।


পুরো ঢাকা শহর সেদিন পরিণত হয় বিভীষিকাময় নগরীতে। রাত ১২টা থেকে ঘোষণা করা হয় অনির্দিষ্টকালের কারফিউ।


রাজধানীর রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, নিউমার্কেট, কুড়িল, মহাখালী, উত্তরাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ধরা পড়ে ধ্বংসস্তূপের চিত্র। বাতাসে বারুদের গন্ধ, টিয়ার শেলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।


পুলিশের গুলিতে, সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার শেলের আঘাতে দিনভর চলতে থাকে রাজপথে তাণ্ডব। আতঙ্ক ও গুজবে ছেয়ে যায় গোটা দেশ।


গুলশান-১ এ ইটপাটকেল ছোড়ার পর দুটি বেসরকারি ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মহাখালীতে রেল ও সড়ক অবরোধ করে দুটি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। নিউমার্কেটে পুড়িয়ে দেয়া হয় পুলিশ ফাঁড়ি।


সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যাত্রাবাড়ীতে। সেখানে সারাদিন ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পুলিশ ও বিজিবির অ্যাকশানে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্ধ হয়ে পড়ে।


স্বৈরাচার সরকারের মুখপাত্র বিবেচিত বিটিভিতেও হামলা চালানো হয়। মালিবাগ রেলগেট থেকে রামপুরার বিটিভি ভবন পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকা দখল করে নেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দেন। কুড়িলে হেলিকপ্টার থেকে টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। র‍্যাব সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।


উত্তরার পরিস্থিতিও ছিল ভয়াবহ। সেখানে হতাহতের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। মোহাম্মদপুরেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


দিনভর মরদেহ আসতে থাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় যাত্রাবাড়ীতে—৫ জন। শতাধিক আহত ব্যক্তি ঢামেকসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন।


ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা বিশৃঙ্খলা করেছে ও তাদের যারা সহযোগিতা করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।


আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেন—আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত জড়িত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাধ্য হয়ে গুলি ও কারফিউর নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন—সরকার নিজেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।


সকালে জাদুঘরের সামনে ‘সন্তানের পাশে অভিভাবক’ ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন অভিভাবকরা। অনেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করেন।


দিনভর বন্ধ ছিল ইন্টারনেট, স্থবির ছিল যান চলাচল। মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।


রাত ১২টা থেকে সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত হয়, সেনা মোতায়েন করা হবে। সেই রাতেই দেশজুড়ে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিতে থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।