বুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬
বুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়‘মা, আমার সব জ্বলে’— বার্ন ইউনিটে শিশুর আর্তনাদে হৃদয়বিদারক দৃশ্য

‘মা, আমার সব জ্বলে’— বার্ন ইউনিটে শিশুর আর্তনাদে হৃদয়বিদারক দৃশ্য

favicon
অনলাইন সংস্করণ
‘মা, আমার সব জ্বলে’— বার্ন ইউনিটে শিশুর আর্তনাদে হৃদয়বিদারক দৃশ্য

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার পর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে। সন্তানের এমন পরিণতি কেউই মেনে নিতে পারছেন না।


কেউ হাসপাতালের দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন, কেউবা সন্তানদের পোড়া স্কুল ড্রেস জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছেন। সোমবার সন্ধ্যায় বার্ন ইনস্টিটিউট ঘুরে দেখা যায় এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য।


হাসপাতালের চতুর্থ তলার আইসিইউর সামনে ১০-১২ জন স্বজন অপেক্ষা করছিলেন। কারও মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না— কেউ মেঝেতে বসে কাঁদছিলেন, কেউ নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।


অন্যদিকে, পঞ্চম তলায় চলছিল আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা। সেখানে দেখা গেল চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহরিনের মামা ফাহাদ নিয়ন তার ভাগ্নির পোড়া স্কুল ড্রেস ধরে কাঁদছেন। সান্ত্বনা দিতে এসে এক নারী নিজেও কাঁদছিলেন। নিয়ন বলছিলেন, ‘ও (মেহরিন) খুব নিষ্পাপ। সারাদিন পড়াশোনা করে। এখন ওর দুই হাত আর মুখ পুড়ে গেছে।’


এক পাশে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুরে জান্নাতের মা ইয়াসমিন আক্তার হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। জান্নাতের কপাল, মুখ, মাথা ও পিঠ পুড়ে গেছে। কান্নার ভেতর ইয়াসমিন বলছিলেন, ‘আমার মেয়ে আমার সাথে কথা বলেছে। মেয়ে বলেছে, মা, আমার সব জ্বলে।’


পাশেই কাঁদছিলেন নাসিমা বেগম। তার সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে রবিউল হাসান রোহানের শরীরের বড় অংশই পুড়ে গেছে। নাসিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘এমন দশা ক্যামনে হইছে রে! কত মায়ের বুক খালি হইছে রে। আমার রোহান যন্ত্রণায় কাতরাইতাছে।’


এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের প্রতিটি প্রান্ত।