নকল পণ্যে চটকদার মোড়ক, আসল ব্র্যান্ডের হুবহু নকল
বিদেশি নামি ব্র্যান্ডের আদলে তৈরি চটকদার মোড়কে বাজার সয়লাব নকল প্রসাধনী পণ্যে। নামের বানানে সামান্য কারসাজি, কখনো একটি বর্ণের হেরফের, কখনো বা হুবহু ডিজাইনের কপি—এসবই চোখে না পড়লে গ্রাহক বিভ্রান্ত হতেই পারেন।
পুরান ঢাকার চকবাজার, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য, যার বেশিরভাগই বিক্রেতাদের দাবি অনুযায়ী ‘চীনা আমদানিকৃত’। তবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বলছে, এসব পণ্যের কোনো অনুমোদন নেই।
বিএসটিআই জানায়, গত অর্থবছরে মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ৬২টি অভিযান চালিয়ে ৬৭টি মামলা করা হয়েছে এবং দুটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে ৫০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের নকল পণ্য ও লেবেল এবং আদায় করা হয়েছে ২৬ লাখ টাকার বেশি জরিমানা।
তবে তাতেও বন্ধ হচ্ছে না নকল প্রসাধনীর বাজার। বিএসটিআইর পরিচালক (সিএম) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে আমদানিকারকরা দোকানে পণ্য সরবরাহ করে দেয়, ফলে তাদের ধরাও কঠিন হয়ে পড়ে। এক দোকানে অভিযান চালালেও আশপাশের দোকানগুলো আগেই পণ্য লুকিয়ে ফেলে দেয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরও রয়েছে সক্রিয়। গত এক বছরে (জুন পর্যন্ত) ৭৪৪টি অভিযান চালিয়ে ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে সংস্থাটি। এসেছে ৫৮৩টি অভিযোগ, যার মধ্যে ৪৩৩টির সমাধান হয়েছে।
দফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বলেন, “প্রসাধনী ও স্কিন কেয়ার পণ্যে ভেজালের ঝুঁকি বেশি। তাই ভোক্তাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। যাচাই-বাছাই করে আসল পণ্য কেনার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ও ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কায় নকল পণ্যের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।