তিস্তা সেতু শনিবার খুলছে, কুড়িগ্রাম-গাইবান্ধার দূরত্ব কমবে ১০০ কিমি
গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুটি আগামীকাল (শনিবার) যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী।
সেতুটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর খেয়াঘাট থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী খেয়াঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৪৯০ মিটার, যা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত অন্যতম বৃহৎ সেতু।
সেতু চালু হলে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মধ্যে সড়কপথে দূরত্ব ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি কমে যাবে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও এলাকার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। এতে গতি পাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন।
সেতুটি সৌদি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে চীনা প্রতিষ্ঠান পিসি গার্ডার নির্মাণ করেছে। প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে মোট ৭৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণে ২৭৯ কোটি ৪৭ লাখ, সংযোগ সড়কে ১০ কোটি ২৫ লাখ, নদীশাসনে ৮ কোটি ৫৫ লাখ এবং জমি অধিগ্রহণে ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
সেতুর নিচে ৩০টি পিলারের মধ্যে ২৮টি নদীর মধ্যে এবং বাকি দুটি সেতুর দুই প্রান্তে স্থাপন করা হয়েছে। সেতুর দুই পাশে ৩.১৫ কিলোমিটার এলাকায় নদীশাসন কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় মোট ৫৭.৩ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের চিলমারীর মাটিকাটা জংশন থেকে সেতু পর্যন্ত ৭.৩ কিলোমিটার এবং গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট থেকে হরিপুর পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে।
এই সেতু কৃষক ও স্থানীয় জনগণের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে—তাঁরা পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছে দিয়ে বেশি লাভ করতে পারবেন। এতে এলাকাজুড়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।