সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বকানাডার মন্ট্রিয়লে বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত

কানাডার মন্ট্রিয়লে বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
কানাডার মন্ট্রিয়লে বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত

কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে বন্দুকধারীর হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের কোট-দে-নিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন সাধারণ নাগরিক এবং হামলাকারী নিজেও ছিলেন। এ ঘটনায় আরও এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। তবে পরে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছিল পুলিশ।


ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। কোট-দে-নিজ এলাকা মন্ট্রিয়লের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা, যেখানে ইহুদি সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ বসবাস করেন। সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বাজার ও রেস্তোরাঁ রয়েছে।


মন্ট্রিয়ল পুলিশের প্রধান ফাদি দাঘের জানান, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গোলাগুলি শুরু হয়। হামলাকারী একটি ভবনের ভেতর থেকে গুলি চালাচ্ছিল। পরে পুলিশের অভিযানে সে নিহত হয়।

পুলিশ ধারণা করেছিল, হামলাকারী একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছিল। তার পরনে সামরিক পোশাকের মতো পোশাক ছিল বলেও জানানো হয়। তবে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


ফাদি দাঘের ঘটনাটিকে একটি ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, হামলায় এক পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দোকান ও ভবনের ভেতরে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।


হামলার কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। সম্ভাব্য সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। কিছু প্রতিবেদনে হামলাকারীর সঙ্গে চরমপন্থী মতাদর্শের কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে বলে আলোচনা করা হলেও পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

ঘটনাস্থলটি ইহুদি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় হামলাটি ইহুদিবিরোধী ছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে পুলিশ এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়নি এবং গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিহত ও আহতদের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি সমবেদনা জানান। ক্যুবেকের প্রধানমন্ত্রীও শোক প্রকাশ করেন এবং সবাইকে তদন্তের ফলাফল পাওয়ার আগে কোনো ধরনের অনুমান না করার আহ্বান জানান।

পুলিশ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ধীরে ধীরে এলাকাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়। তবে হামলার কারণ ও হামলাকারীর উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলতে থাকে।