সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বআন্তর্জাতিক নজরদারি ব্যবস্থা শান্তি চুক্তির অপরিহার্য অংশ হবে বলে জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক নজরদারি ব্যবস্থা শান্তি চুক্তির অপরিহার্য অংশ হবে বলে জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক নজরদারি ব্যবস্থা শান্তি চুক্তির অপরিহার্য অংশ হবে বলে জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক থাকবে। পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না—ইরানের এমন দাবিকে তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।


মঙ্গলবার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, পরিদর্শন ব্যবস্থা নিয়ে ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষায়, ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার শর্ত সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন।


তিনি বলেন, “তারা ভুল বলছে এবং তারা জানে যে তারা ভুল বলছে। যদি তাদের দাবি সত্য হতো, তাহলে আমি আলোচনাগুলোই বাতিল করে দিতাম।”


ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবেই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি জানান, চুক্তি বাস্তবায়নের নির্ধারিত পর্যায়ে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকরা ইরানে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।


পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অন্যতম প্রধান মতবিরোধের কারণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রশাসন মনে করে, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করার যেকোনো চুক্তির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নজরদারি অপরিহার্য।


অন্যদিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক আন্তর্জাতিক প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। দেশটির কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এমন পরিদর্শন ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছেন, যা তাদের মতে জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।


বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর কূটনৈতিক ইস্যুগুলোর একটি। অতীতের বিভিন্ন পরমাণু চুক্তিতেও আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বারবার মতবিরোধ দেখা গেছে।


ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তার প্রশাসন ভবিষ্যতের যেকোনো সমঝোতায় কঠোর পরিদর্শন ও যাচাই প্রক্রিয়াকে অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র চায়, আলোচনার মাধ্যমে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক তদারকি ব্যবস্থা বজায় থাকুক।


বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের এ বক্তব্য নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।