বৃহস্পতিবার , ২০ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২০ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বসিরিয়ায় তুরস্কের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে ইসরাইল-তুরস্ক উত্তেজনা

সিরিয়ায় তুরস্কের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে ইসরাইল-তুরস্ক উত্তেজনা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
সিরিয়ায় তুরস্কের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে ইসরাইল-তুরস্ক উত্তেজনা

সিরিয়ায় তুরস্কের সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইসরাইল তুরস্ককে সিরিয়ায় ‘বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতা’ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাল্টা জবাবে সিরিয়ায় ‘বেপরোয়া’ হামলা বন্ধ করতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা।


গত মঙ্গলবার সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ঘাঁটির রানওয়ে ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


ইসরাইলের দাবি, ওই ঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছিল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, সেখানে তুর্কি সেনা মোতায়েন করা হলে তা ইসরাইলের সঙ্গে বিদ্যমান নিরাপত্তা সমঝোতার ‘স্থিতাবস্থা’ লঙ্ঘন করত।


তবে ইসরাইলের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক ও সিরিয়া। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জানিয়েছেন, আবু আল-দুহুরে তুরস্কের কোনো সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল না। তুর্কি সামরিক কর্মকর্তাদের সফর প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতার অংশ ছিল বলে জানান তিনি।


তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, হামলার আগে বা হামলার সময় বিমানঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সামরিক প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল না। একই সঙ্গে সিরিয়ায় ইসরাইলের ‘বেপরোয়া হামলা’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা।


এর মধ্যেই ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে সতর্ক করে বলেন, সিরিয়ায় তুরস্ককে ‘বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতায়’ জড়ানো এবং ইসরাইলের আত্মরক্ষার দৃঢ়তা পরীক্ষা করা উচিত নয়।


বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে তুরস্ক। দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে আঙ্কারা সহযোগিতা করছে। এতে সিরিয়ায় তুরস্কের প্রভাব বাড়ার পাশাপাশি ইসরাইলের উদ্বেগও বাড়ছে।


পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে। ইসরাইল, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে সংঘাত এড়াতে একটি ‘ডি-এস্কেলেশন’ বা উত্তেজনা প্রশমন যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।


মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা সামরিক ভুল বোঝাবুঝির কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।