বিদেশি ঋণ নিয়ে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের
বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (৭ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব বৈদেশিক মুদ্রার অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশি ঋণের বিপরীতে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব খোলা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদনের আওতায় খোলা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের শর্ত অনুযায়ী সুদ বা মুনাফা অর্জন করা যাবে।
এ ছাড়া অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত ফর্ম অনুযায়ী ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যবহারের প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দিতে হবে। ডিসেম্বর, মার্চ, জুন ও সেপ্টেম্বর শেষে এসব প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
ঋণের অর্থ উত্তোলন ও ব্যবহার সম্পন্ন হওয়ার পর অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব বন্ধ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগকে বিষয়টি জানাতে হবে।
তবে ঋণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিদেশি ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত হিসাবটি সচল রাখা যাবে। এ ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় বাদ দিয়ে রপ্তানি আয় এবং বৈধ উৎস থেকে টাকায় রূপান্তরিত অর্থ ওই হিসাবে জমা করা যাবে। তবে পরবর্তী তিনটি কিস্তি পরিশোধের প্রয়োজনীয় পরিমাণের বেশি অর্থ হিসাবে রাখা যাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আইবিএ ও এসসিএনসিএল কর্তৃক যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের অনুমোদিত বিদেশি ঋণের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব খোলা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনার বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিদেশি ঋণের অর্থ যে উদ্দেশ্যে অনুমোদন করা হয়েছে, কেবল সেই উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধান ও ঋণ চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের শাখাগুলোকে অবিলম্বে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে।