শুক্রবার , ০৯ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার , ০৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › বিজ্ঞান ও গবেষণায় ১০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছেন ট্রাম্প

বিজ্ঞান ও গবেষণায় ১০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছেন ট্রাম্প

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
বিজ্ঞান ও গবেষণায় ১০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছেন ট্রাম্প

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিক গবেষকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ বাড়াতে ১০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সম্মেলনে এ উদ্যোগ ঘোষণা করার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের।


হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করতে আগ্রহী মার্কিন নাগরিকদের ফেলোশিপ দেওয়ার মাধ্যমে উচ্চ প্রশিক্ষিত গবেষকের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক গবেষণা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


এ উদ্যোগের আওতায় ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের ‘ইয়াং স্কলার্স’ কর্মসূচিও পুনরায় চালু করা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া এ কর্মসূচিতে সরকার ৩ কোটি ডলার দেবে। পাশাপাশি জেন স্ট্রিটসহ বিভিন্ন বেসরকারি উৎস থেকে আরও ৫ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হবে।


হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি কার্যালয়ের পরিচালক মাইকেল ক্র্যাটসিওস বলেন, এই বিনিয়োগ বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখতে সহায়তা করবে।


এদিকে বৃহস্পতিবারের সম্মেলনে ইলন মাস্ক, সার্গেই ব্রিন, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এবং অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের প্রধান নির্বাহী লিসা সুসহ প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নেতাকে পুরস্কৃত করার কথা রয়েছে।


ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি কার্যক্রম চাপে পড়েছে।


চলতি বছর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টরাল কর্মসূচিতে ভর্তি কমিয়েছে বা স্থগিত করেছে। আগের বছরের তুলনায় পিএইচডি কর্মসূচিতে ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪০ শতাংশই ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।


যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার সঙ্গেও এই বিনিয়োগকে যুক্ত করা হচ্ছে। সম্মেলনে ট্রাম্প জ্বালানি বিভাগকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ১০ কোটি ডলারের কম্পিউটিং সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণাও দিতে পারেন।


অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশটির বৈজ্ঞানিক গবেষণা খাতে অর্থ বরাদ্দ কমানো, স্থগিত করা এবং অনিশ্চয়তা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে চলতি বছর কেন্দ্রীয় গবেষণা তহবিল প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।


সরকারি হিসাবে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বছরে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে পিএইচডিধারী ১০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মী চাকরি ছেড়েছেন। এর মধ্যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের প্রায় ১১০০ কর্মী রয়েছেন।