কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে শেখ হাসিনার পতন পর্যন্ত: শিক্ষার্থীদের দাবি থেকে শুরু ‘বাংলাদেশ 2.0’
সরকারি চাকরিতে ‘কোটা প্রথা’ বাতিলের দাবিতে শুরু হয় একটি অরাজনৈতিক শিক্ষার্থী আন্দোলন, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের একদফা দাবিতে।
২০১৮ সালে প্রথম এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার সংস্কার চেয়ে দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন। এর জেরে, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শেখ হাসিনা সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে।
তবে ২০২৪ সালের ৫ জুন একটি আদালতের রায় অনুযায়ী কোটাব্যবস্থা পুনর্বহাল হলে তা নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা এবং ৩০ জুনের মধ্যে সরকারের কাছে সুরাহার সময়সীমা নির্ধারণ করে।
১ জুলাই গঠিত হয় নতুন একটি প্লাটফর্ম— ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, বিক্ষোভ শুরু হয় চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির বিভিন্ন নেতাকর্মীরা জানান, ঈদের ছুটির ফাঁকে এই আন্দোলন জোরদার হয়। পাশাপাশি, একই সময়ে শিক্ষকদের পেনশন সংক্রান্ত অসন্তোষ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির ছিল, যার ফলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সক্ষম হয়।
‘ভাষাগত ভিন্নতা’ এবং ‘বিরাজনীতিকরণ’-এর কারণে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ মানুষেরাও এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হন। যমুনা টেলিভিশন আন্দোলনের সংবাদ কাভারেজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আন্দোলনের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শেখ হাসিনা সরকার টিকতে পারেনি। অবশেষে ৫ আগস্ট ২০২৫ তিনি দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। আর এভাবেই শুরু হয় নতুন এক রাজনৈতিক পর্ব— ‘বাংলাদেশ 2.0’।