বিএনপি নেতা ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে চাঁদাবাজির অভিযোগ
যশোরের অভয়নগরে শাহনেওয়াজ কবীর ওরফে টিপু (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বুকসমান বালুতে পুঁতে রেখে চার কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ব্যবসায়ীর স্ত্রী আসমা খাতুন রাজঘাট সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে গেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহনেওয়াজ কবীর নওয়াপাড়ার জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের মালিক। অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে সৈকত হোসেন ওরফে হিরা নামে এক ব্যক্তি তাকে কৌশলে বিএনপির (পদ স্থগিত) সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনির ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে মারধর করে অস্ত্রের মুখে দুই কোটি টাকা দাবি করা হয়। পরে স্ত্রী আসমা খাতুন সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে আসাদুজ্জামানের প্রতিষ্ঠানে সেই টাকা পাঠালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় নওয়াপাড়া যাওয়ার পথে সৈকত আবার তার পথরোধ করেন। এরপর বিকেল ৩টা পর্যন্ত তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানা যায়, তাকে কনা ইকোপার্কে নেওয়া হয়েছে। সেখানে বিএনপি নেতা জনি, সম্রাট হোসেন এবং নওয়াপাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন আসমা খাতুনকে অস্ত্রের মুখে হুমকি দেন এবং তার স্বামীকে বুক পর্যন্ত গর্ত খুঁড়ে বালু চাপা দিয়ে আবারও দুই কোটি টাকা দাবি করেন।
ভয়ে ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ তার ব্যবস্থাপককে ফোন করে সাংবাদিক মফিজ উদ্দিনের অ্যাকাউন্টে পূবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ এবং সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লাখ টাকা পাঠান। এছাড়া মফিজ উদ্দিন আরও এক কোটি টাকার একটি চেক আদায় করেন। হুমকি দিয়ে বলেন, বিষয়টি প্রকাশ পেলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।
আসমা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী এলাকায় ফিরতে পারছেন না। আমরা পুরো পরিবারই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ব্যবসা বন্ধের পথে এবং একমাত্র বাড়িটুকু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
বিএনপি নেতা জনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সাংবাদিক মফিজ উদ্দিন অবশ্য দাবি করেন, “আপনি যাকে খুঁজছেন আমি সে মফিজ নই,” বলেই ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলিম জানান, “এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্তারিত জানার পরই মন্তব্য করা সম্ভব হবে।