শুক্রবার , ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার , ২১ আগস্ট ২০২৬
হোমসারা দেশঅপহরণ-চাঁদাবাজিতে আতঙ্ক, বান্দরবান-রাঙ্গামাটিতে পর্যটন স্থবির

অপহরণ-চাঁদাবাজিতে আতঙ্ক, বান্দরবান-রাঙ্গামাটিতে পর্যটন স্থবির

favicon
অনলাইন সংস্করণ
অপহরণ-চাঁদাবাজিতে আতঙ্ক, বান্দরবান-রাঙ্গামাটিতে পর্যটন স্থবির

সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন কমছে, আর এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয়দের অর্থনীতিতে। অপহরণ, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীই গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটন এলাকাগুলোতে আরোপ করা হয়েছে নানা বিধি-নিষেধ।


স্থানীয়দের আতঙ্ক এতটাই তীব্র যে, আর্থিক সংকটে জীবনযাপন করলেও সহিংস কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না কেউ। অপহরণ, হত্যা ও চাঁদাবাজি এখন এতটাই প্রকট যে, যাদের সাথে কথা হয়েছে তাদের প্রায় সবাই আতঙ্কগ্রস্ত।


মৌসুম অনুযায়ী পর্যটক আসার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। দল বেঁধে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যেও রয়েছে এক ধরনের উৎকণ্ঠা। বান্দরবানের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অনেক জায়গায় প্রবেশে নিরুৎসাহিত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে বগা লেকের পর কেওক্রাডাংসহ কয়েকটি স্থানে পর্যটকদের যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।


খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির হোটেল-মোটেলগুলোতে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, বছরে এই তিন পার্বত্য জেলা থেকে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।


বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, পর্যটকদের কিছু এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবে ভবিষ্যতে এসব খোলা হতে পারে। তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগও অস্বীকার করেননি এবং স্বীকার করেন যে সশস্ত্র গ্রুপগুলো এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত।


বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ে প্রভাব ও শক্তি বজায় রাখতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সচেতনভাবেই অস্থির পরিবেশ ধরে রাখছে।