শুক্রবার , ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার , ২১ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বুধবার ভার্চুয়াল বৈঠকের পর ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে কিছুটা আশাবাদী ইউরোপীয় নেতারা। ট্রাম্প দুই দিন পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যার মূল লক্ষ্য মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।


ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, ভূখণ্ড সংক্রান্ত আলোচনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সম্পৃক্ততা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে ট্রাম্প রাজি হয়েছেন। ইউরোপীয় নেতারা বৈঠকে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে কিয়েভের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ফিনল্যান্ড ও পোল্যান্ডের নেতাদের পাশাপাশি ইইউ প্রধান উরসুলা ভন ডের লেয়েন ও ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট্টের সঙ্গে কথা বলেন। ইউরোপীয় নেতারা আলাস্কা শীর্ষ সম্মেলন থেকে বাদ পড়ায় এই ফোনালাপ ছিল ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষায় তাদের শেষ প্রচেষ্টা।


বৈঠক শেষে ট্রাম্প একে “১০-এর মধ্যে ১০” আখ্যা দেন এবং রাশিয়াকে সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতি না হলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। বৈঠক সফল হলে পুতিন ও জেলেনস্কিকে নিয়ে আরও একটি শীর্ষ বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।


তবে ইউরোপীয় নেতাদের শঙ্কা, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প পুতিনের দাবিতে সাড়া দিয়ে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ইউক্রেনের কিছু ভূখণ্ড ছাড়তে রাজি হতে পারেন। পুতিন আগেই শর্ত দিয়েছেন, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল ছাড়তে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে—যা কিয়েভ ও মিত্রদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।


জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়াকে কোনো অঞ্চল ধরে রাখতে দিলে তা ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের পথ খুলে দেবে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে গঠিত “কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং” শত্রুতা শেষ হলে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনে প্রস্তুত রয়েছে, যদিও কাঠামো ও ভূমিকা এখনো নির্ধারণ হয়নি।


এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার গ্রীষ্মকালীন আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। দোনেৎস্কের দোব্রোপিলিয়া অঞ্চলে মস্কোর সেনাদের অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে জেলেনস্কি বলেন, পুতিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে ধোঁকা দিচ্ছেন।


ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হলেও তিনি হয়তো ইউক্রেনে বেসামরিক হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করাতে পারবেন না।