শনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
শনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসাচাঁদপুরে ইলিশের আকাশছোঁয়া দাম, সাধারণ ক্রেতার ধরাছোঁয়ার বাইরে

চাঁদপুরে ইলিশের আকাশছোঁয়া দাম, সাধারণ ক্রেতার ধরাছোঁয়ার বাইরে

favicon
অনলাইন সংস্করণ
চাঁদপুরে ইলিশের আকাশছোঁয়া দাম, সাধারণ ক্রেতার ধরাছোঁয়ার বাইরে

ইলিশের জন্য বিখ্যাত চাঁদপুরে ভরা মৌসুমেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে এই মাছ। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছ বাজারে বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ২৭০০ টাকায়, আর এক কেজির কম ওজনের মাছও বিক্রি হচ্ছে ১৮০০–২০০০ টাকায়।


চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির তথ্যমতে, সেদিন বাজারে প্রায় ৩০০ মণ ইলিশ আসে, যার মধ্যে মাত্র ১০০ মণ পদ্মা-মেঘনা থেকে এবং বাকিগুলো উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ করা হয়। যদিও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ২০০–২৫০ টাকা দাম কিছুটা কমেছে।


স্থানীয় জেলেরা জানান, আগে বর্ষায় পদ্মা-মেঘনায় প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত, এখন নদী প্রায় ফাঁকা। তারা অভিযোগ করেন, দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চলে হাজারো নিষিদ্ধ জাল (কারেন্ট, মশারি ও ফাঁদ জাল) ব্যবহারের কারণে ইলিশ ঝাঁকবেঁধে ওপরে আসতে পারে না। ফলে চাঁদপুরে সরবরাহ কমে গেছে। এতে লাখো জেলে পরিবার চরম অর্থকষ্টে পড়েছে।


মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, একসময় চাঁদপুর বাজারে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার মণ ইলিশ বিক্রি হতো, এখন তা নেমে এসেছে ২–৩ শত মণের মধ্যে। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চল থেকে সরবরাহ কমেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজা ইলিশ দেখা যাচ্ছে, যেগুলোর ওজন প্রায় ৩ কেজি, দাম উঠছে ২৭০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত।


চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জানিয়েছেন, বড়স্টেশন ঘিরে আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও পরিকাঠামো নিশ্চিত করা হবে।


ইলিশ গবেষক ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীতে ডুবোচর, চর গঠন, মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং নিষিদ্ধ জালের কারণে ইলিশ নদীতে উঠে আসতে পারছে না। তার মতে, কঠোর আইন প্রয়োগ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সংকট দূর হবে না।


মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, মার্চ–এপ্রিলে জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি এবং অক্টোবরে ডিম ছাড়ার সময় ২৫ দিনের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ রাখা হয়। এতে কিছুটা সুফল মিললেও, এখনো সংকট কাটেনি। বর্তমানে দেশের ইলিশ উৎপাদন প্রায় পৌনে ৬ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে বলে দাবি তাদের।