শুক্রবার , ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার , ২১ আগস্ট ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসাব্যবসায় মন্দা ও দুর্নীতিতে রাজস্ব আয় চাপের মুখে

ব্যবসায় মন্দা ও দুর্নীতিতে রাজস্ব আয় চাপের মুখে

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ব্যবসায় মন্দা ও দুর্নীতিতে রাজস্ব আয় চাপের মুখে

গত অর্থবছর (২০২৪-২৫) বড় করদাতাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। ব্যবসায়িক মন্দা ও দুর্নীতির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ভ্যাট আদায়ের দুর্বলতার পেছনে দুর্নীতির বড় ভূমিকা রয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশের কম ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হলে প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন জরুরি।


তথ্য অনুযায়ী, ভ্যাট উইংয়ের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) গত অর্থবছরে ৭৬ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করেছে। আগের বছরের ৭৩ হাজার ৬৬০ কোটির তুলনায় এ পরিমাণ কিছুটা বেশি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আদায় হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ৩৪টি খাতের মধ্যে ২৫টিতে প্রবৃদ্ধি হলেও ৯টি খাতে ভ্যাট আদায় হ্রাস পেয়েছে। পতন হওয়া খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), পাঁচ তারকা হোটেল, সিরামিক টাইলস, টেলিকম যন্ত্রাংশ, খাদ্যপণ্য, প্যাকেজিং সামগ্রী, কাগজ, পানি সরবরাহ ও সাবান উৎপাদন।


অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বৃহৎ করদাতা ইউনিটের ভ্যাট প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের ওপরে ছিল। তবে সামগ্রিকভাবে এনবিআরের রাজস্ব আয় বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ২৩ শতাংশ।


সবচেয়ে বড় অবদান এসেছে তামাক খাত থেকে। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ একাই দিয়েছে ৩৬ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা ভ্যাট, যা আগের বছরের তুলনায় ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বেশি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবদানকারী খাত হলো মোবাইল ফোন অপারেটররা, যারা দিয়েছে ১১ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা—প্রবৃদ্ধি প্রায় ১০ শতাংশ। গ্যাস খাত থেকেও এসেছে ১১ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা (প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ)। অন্যদিকে ১৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক দিয়েছে ৩ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি।


ভ্যাট উইংয়ের সাবেক সদস্য ও এনবিআর সংস্কার পরামর্শ কমিটির সদস্য ফরিদ হোসেন মনে করেন, ভ্যাট আদায় দীর্ঘদিন ধরে মূলত তামাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। তামাকে সামান্য পতন ঘটলেই সামগ্রিক রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই প্রচেষ্টাভিত্তিক ভ্যাট আদায় বাড়ানো এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


তার মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ১৬ শতাংশে উন্নীত করার সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনও ৭ থেকে ৮ শতাংশেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।