শনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
শনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
হোমসারা দেশশাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর লুট: ১ বছরে পাহাড় গায়েব, সিন্ডিকেটে সব দলের নেতা

শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর লুট: ১ বছরে পাহাড় গায়েব, সিন্ডিকেটে সব দলের নেতা

favicon
অনলাইন সংস্করণ
শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর লুট: ১ বছরে পাহাড় গায়েব, সিন্ডিকেটে সব দলের নেতা

সিলেটের ঐতিহাসিক শাহ আরেফিন টিলা আজ ধ্বংসস্তূপ। ১৩৭ একর জায়গাজুড়ে থাকা টিলাটি এখন গর্ত আর গর্ত। একসময় যেখানে ছিল সবুজ টিলা, সেখান থেকে বছরের পর বছর ধরে কেটে নেয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকার পাথর।


আইন থাকা সত্ত্বেও ১৯৯৯ সালে সরকারি ইজারার পর শুরু হয় পাথর উত্তোলন। মামলাজটের কারণে মাঝেমধ্যে বন্ধ থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবারও দেদারসে চলছে লুটপাট। মাত্র এক বছরে টিলাটি প্রায় নিশ্চিহ্ন।


গত বছরের আগস্টেও ৫০ ফুট উঁচু এ টিলায় টিকে ছিল ৭০০ বছরের পুরোনো ‘শাহ আরেফিন টিলা মাজার’। কিন্তু চার মাসের ব্যবধানে সেটিও মাটিচাপা পড়ে গেছে। শুধু এই টিলা থেকেই লুট হয়েছে শত কোটি টাকার পাথর।


কারা জড়িত?

যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এ ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে রয়েছে প্রায় ২০ জনের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা মিলেই পরিচালনা করেছে এ লুটপাট।


নাম এসেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আহমদ বাবুল, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেবুল আহমদ, ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ইসমাঈল মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হুঁশিয়ার আলী, যুবলীগ সভাপতি ফয়জুর রহমানসহ আরও অনেকের। জামায়াত কর্মী ইয়াকুব আলী স্বীকার করেছেন, তিনি ট্রাকে পাথর পরিবহন করে ক্রাশার মিলে সরবরাহ করতেন।


প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, পাথরবাহী ট্রাক ও ট্রাক্টর থেকে চাঁদাবাজি করত তারা। যমুনা টিভির হাতে এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজও এসেছে।


কোটি টাকার কারবার

ধলাই নদীর দুই পাড়েই তৈরি হয়েছিল শত শত পাথর রাখার জায়গা। প্রতিদিন এসব জায়গা থেকে কোটি টাকার পাথর বিক্রি হয়েছে। শ্রমিকরা পেত নামমাত্র মজুরি, আসল মুনাফা গেছে রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের পকেটে।


আরো নাম প্রকাশ

অনুসন্ধানে বেরিয়েছে আরও ৫০ জনের নাম, যারা এই লুটপাটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ এখন পলাতক।


পরিবেশবাদীদের অভিযোগ

পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রশাসন ইচ্ছা করলে আগেই থামাতে পারত এ লুট। বেলার বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আক্তার অভিযোগ করেন, অপরাধীদের চেহারা বদলালেও পাথর লুট বন্ধ হয়নি।


প্রশাসনের ভুমিকা

চোখের সামনেই বছরে প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে সাদাপাথর, জাফলং, আরেফিন টিলা ও রাংপানি এলাকা থেকে। উদ্ধার করা গেছে মাত্র ৫ লাখ ঘনফুট। যেগুলো আগেই বিক্রি ও চূর্ণ করা হয়েছে, সেগুলো আর ফেরানো সম্ভব নয়।