শনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
শনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
হোমসারা দেশ৯২৫ কোটি টাকায় নির্মিত দেশের বৃহত্তম এলজিইডি সেতু উন্মুক্ত হচ্ছে কাল

৯২৫ কোটি টাকায় নির্মিত দেশের বৃহত্তম এলজিইডি সেতু উন্মুক্ত হচ্ছে কাল

favicon
অনলাইন সংস্করণ
৯২৫ কোটি টাকায় নির্মিত দেশের বৃহত্তম এলজিইডি সেতু উন্মুক্ত হচ্ছে কাল

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ঘাট থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা গার্ডার সেতুটি অবশেষে আগামীকাল বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় উদ্বোধন হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সেতুস্থলে উপস্থিত থেকে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।


ইতোমধ্যে সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মাওলানা ভাসানী সেতু’। উদ্বোধনের পর বিকেল থেকেই সেতুটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এলজিইডির প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া, চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।


এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওফিড) অর্থায়নে নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৯.৬ মিটার প্রস্থের এ সেতুটিতে দুটি লেন এবং মোট ৩১টি স্প্যান রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।


এটি একটি প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার সেতু এবং বর্তমানে এলজিইডির আওতায় নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় সেতু। সেতুটি নির্মাণ করেছে চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন।


উদ্বোধনের আগেই সেতু দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো মানুষ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেতুর দুই প্রান্তে ভিড় করছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেতু চালু হওয়ায় আনন্দে ভাসছেন গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের বাসিন্দারা।


স্থানীয়দের মতে, এ সেতু চালু হলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারীর মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে। এতে শিল্প ও কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমবে। পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।


বামনডাঙ্গা থেকে সেতু দেখতে আসা সোহান মিয়া বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেতুটি দেখে খুব ভালো লাগছে। নদীতে নৌকায় ঘুরলাম, এলাকাটিও ঘুরে দেখলাম—সব মিলিয়ে আনন্দ লাগছে।”


হরিপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়া জানান, “এই সেতুর ফলে যোগাযোগ সহজ হবে, জীবনমানও উন্নত হবে। আগে নৌকায় চলতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। সেই ভোগান্তির অবসান হচ্ছে।”


উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন হলেও নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। অবশেষে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু হয়। বর্তমানে মূল সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। কেবল উত্তর পাশে আর্চ ব্রিজ ও কিছু সংযোগ সড়ক পাকাকরণের কাজ বাকি আছে, যা শিগগিরই সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।