বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › নতুন বদলি নীতিমালায় অসন্তোষ, মাউশির ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

নতুন বদলি নীতিমালায় অসন্তোষ, মাউশির ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

favicon
অনলাইন সংস্করণ
নতুন বদলি নীতিমালায় অসন্তোষ, মাউশির ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মকর্তার মধ্যে নতুন বদলি নীতিমালাকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আগে ঢাকার বাইরে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা থাকত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের কাছে। কিন্তু সরকারি কলেজ শিক্ষক বদলি ও পদায়ন নীতিমালা ২০২৫-এর নতুন সংস্করণে সেই সুযোগ কেটে নেওয়া হয়েছে এবং সব সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে গেছে।


নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন শুধুমাত্র ঢাকাসহ বড় সিটি করপোরেশন এলাকা বাদে অন্য জেলা ও উপজেলার প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে বদলির ফাইল মাউশি অধিদপ্তর উপস্থাপন করতে পারবে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ন্যস্ত।


গত ৩০ জুন প্রকাশিত নীতিমালায় স্বাক্ষর করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের। একই দিনে উপসচিব মো. মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইন মাধ্যমে বদলি ও পদায়নের প্রক্রিয়া জানানো হয়। তবে নীতিমালা ও বিজ্ঞপ্তির মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক, উপাধ্যক্ষ, অধ্যক্ষ, ঢাকা মহানগর ও বড় সিটি করপোরেশনের পদের নিয়োগ ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকবে। সারা দেশের বাকি প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদগুলোর বদলিভিত্তিক পদায়ন অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকবে। কিন্তু নীতিমালায় মাউশির শুধু ফাইল উপস্থাপনের ক্ষমতা রাখা হয়েছে।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) মো. মজিবর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেছেন, “নীতিমালা ও বিজ্ঞপ্তির মধ্যে অসামঞ্জস্য স্পষ্ট করা হবে। তবে নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা উপদেষ্টা ও সচিব মহোদয়ের সিদ্ধান্তে নির্ভর করবে।”


ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, আগের সিনিয়র সচিব এক ধরনের সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন। সেই সিন্ডিকেটে ধরা না পড়লে বদলি বা ভালো পদায়ন পাওয়া যেত না। নতুন নীতিমালায় যদিও সেই সিন্ডিকেট নেই, তবু আমলারা সব ক্ষমতা নিজের হাতে রাখতে চাইছেন। কিছু শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, মাউশি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমস্যা বা সুবিধার বিষয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হলেও এখন ঢাকার বাইরে বদলির ক্ষমতা থাকায় অধিদপ্তরের কাজে মূলত ক্ষতি হচ্ছে।