ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মী কমেছে ২ হাজার
দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে নারী কর্মীর সংখ্যা গত ছয় মাসে প্রায় ২ হাজার বা ৫ শতাংশ কমেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত ‘জেন্ডার সমতা বিষয়ক প্রতিবেদন’ এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৬৪৯ জন। চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৭৮২ জনে।
শুধু কর্মীর সংখ্যা নয়, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশের নানা সূচকেও অবনতি দেখা গেছে। বিশেষত অফিস-পরবর্তী যাতায়াত সুবিধায় বড় ধস নেমেছে। যেখানে গত বছরের শেষে ৫২ শতাংশ নারী এই সুবিধা পাচ্ছিলেন, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৭ শতাংশে।
২০২৫ সালের জুন শেষে ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৩ হাজারের বেশি, যার মধ্যে নারী কর্মী মাত্র ১৭ শতাংশ। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও একই হার বিদ্যমান। অর্থাৎ, প্রতি পাঁচজন পুরুষ কর্মীর বিপরীতে নারী কর্মী মাত্র একজন।
নারী কর্মীদের বেশিরভাগই প্রারম্ভিক ও মধ্যবর্তী পর্যায়ে থাকলেও নীতিনির্ধারণী বা উচ্চপর্যায়ে অংশগ্রহণ এখনো খুবই সীমিত। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে উচ্চপর্যায়ে নারী কর্মীর হার সর্বোচ্চ ১৫.৩০ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকে এই হার ১৪ শতাংশ, আর বেসরকারি ব্যাংকে মাত্র ৭.৮৫ শতাংশ।
কর্মীর সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি নারী কর্মী রয়েছে ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে—২৫ হাজার ৫০ জন। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নারী কর্মী রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে ৮ হাজার ৭৪৮ জন। বিশেষায়িত তিন ব্যাংকে নারী কর্মী ১ হাজার ৯৫২ জন এবং বিদেশি ব্যাংকে মাত্র ১ হাজার ৩২ জন।
প্রতিবেদনটি বলছে, যদিও ব্যাংক খাতে নারীর অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ছে, তবে উচ্চপদে নারী নেতৃত্ব এখনও দৃশ্যমানভাবে পিছিয়ে।