বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › ভোটার নিবন্ধন থেমে আছে, কিন্তু ইসির বিদেশ সফর অব্যাহত

ভোটার নিবন্ধন থেমে আছে, কিন্তু ইসির বিদেশ সফর অব্যাহত

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ভোটার নিবন্ধন থেমে আছে, কিন্তু ইসির বিদেশ সফর অব্যাহত

প্রবাসীদের ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের লাগাতার বিদেশ সফর চললেও সবচেয়ে বেশি প্রবাসী থাকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আগ্রহ তেমন দেখা যাচ্ছে না। বরং ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে, প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনে অগ্রগতি হচ্ছে খুবই নগণ্য।


২০২৩ সালে আগের কমিশন সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দায় ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করলেও দুই বছরে এনআইডি পেয়েছেন মাত্র ৬৫৯ জন প্রবাসী। অথচ সৌদিতেই রয়েছেন প্রায় ৪০ লাখ ৪৯ হাজার বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ায় ৩১৯, কাতারে ৩৯৪ এবং কুয়েতে মাত্র ২১১ জন প্রবাসী এনআইডি সংগ্রহ করেছেন।


এখনও কার্যক্রম শুরু হয়নি ওমান ও বাহরাইনে, যেখানে প্রায় সাড়ে আট লাখ প্রবাসী রয়েছেন।


অন্যদিকে ইসির কর্মকর্তারা সফরে যাচ্ছেন কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি ও সুইডেনের মতো দেশগুলোতে। সম্প্রতি সিইসি নাসির উদ্দিন ১০ দিনের কানাডা সফরে গিয়েছিলেন। ইসির বিভিন্ন কর্মকর্তারা মালয়েশিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর সফরও শেষ করেছেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তাসনিম মাহবুব বলেন, “আমাদের সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের প্রবণতা আছে। উন্নত দেশে ভ্রমণের সুযোগ পেলেই তারা যান, কারণ খরচ তো সরকারই দেয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।”


নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলিমের মতে, “মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তারা শ্রমিক শ্রেণির হওয়ায় সচেতনতা কম। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রচার, সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ডামি ভোট আয়োজন করতে হবে। না হলে তারা ভোটদান থেকে বঞ্চিত হবে।”


ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ দাবি করেন, “মধ্যপ্রাচ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম আগেই শুরু হয়েছে। প্রয়োজন হলে আবারও যাওয়া হবে। দূতাবাসগুলো প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। আমরা সীমিত ভ্রমণের মধ্যে থাকতে চাই।”


তবে প্রবাসীদের অভিযোগ, ইসির তদারকি ঘাটতি এবং দূতাবাসের অসহযোগিতাই এই ধীরগতির মূল কারণ। তারা বলছেন, বিদেশ ভ্রমণের চেয়ে এনআইডি প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানোই জরুরি।