রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’
বহুল প্রতীক্ষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। বুধবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে সনদের চূড়ান্ত সংস্করণও প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রায় ৪০ পৃষ্ঠার এই সনদে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে। এতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ১৯৭৫ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
সনদে বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সালে বহুদলীয় রাজনীতি পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে দেশ গণতন্ত্রে ফিরলেও সেই যাত্রা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কে ‘স্বৈরাচারী শাসনকাল’ হিসেবে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, এ সময় রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও পরিবারকেন্দ্রিক শাসনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়।
দীর্ঘ ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের একদফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়, তারই ফলশ্রুতিতে এই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্থানীয় সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সনদের শেষে রয়েছে সাত দফা বাস্তবায়ন পরিকল্পনাসহ একটি অঙ্গীকারনামা। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জনগণের প্রকাশিত ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অঙ্গীকারনামায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকারদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন, নতুন আইন প্রণয়ন এবং সাংবিধানিক পরিবর্তন দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয় এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা কাজ শুরু করে। তিন দফা আলোচনার পর সংশোধিত সনদ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবর সনদটি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণার কথা রয়েছে।
এর আগে, ১৬ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো খসড়ায় কিছু ত্রুটি থাকায় তা সংশোধন করে পুনরায় পাঠানো হয়। সব মতামত পর্যালোচনা শেষে আজ সনদের চূড়ান্ত সংস্করণ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।