বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › মানবাধিকার রক্ষায় সংস্কার ও জবাবদিহি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে ছয় আন্তর্জাতিক সংস্থার চিঠি

মানবাধিকার রক্ষায় সংস্কার ও জবাবদিহি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে ছয় আন্তর্জাতিক সংস্থার চিঠি

favicon
অনলাইন সংস্করণ
মানবাধিকার রক্ষায় সংস্কার ও জবাবদিহি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে ছয় আন্তর্জাতিক সংস্থার চিঠি

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা রোধে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তারা এই আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এক যৌথ চিঠি পাঠিয়েছে।


চিঠিটি রোববার (২১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। এতে স্বাক্ষর করেছে এইচআরডব্লিউ, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), সিভিকাস, ফোরটিফাই রাইটস, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস, এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।


চিঠিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লব ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার মৌলিক স্বাধীনতা পুনর্বহাল ও নিপীড়নের তদন্তে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেও, নিরাপত্তা খাত এখনো সংস্কারবিহীন এবং জবাবদিহির ঘাটতি বিদ্যমান। তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানায়—২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে মানবাধিকার রক্ষার পরিসর বাড়াতে ও ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে।


চিঠিতে বিশেষভাবে যে বিষয়গুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে তা হলো—


র‌্যাব বিলুপ্তি ও ডিজিএফআইয়ের ক্ষমতা সীমিতকরণসহ নিরাপত্তা খাত সংস্কার।


গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার।


জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (এনএইচআরসি) স্বাধীন ও কার্যকরভাবে পুনর্গঠন।


সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ মতপ্রকাশ-নিরোধী আইন বাতিল বা সংশোধন।


সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ও সাংবাদিকদের নির্বিচার গ্রেফতার বন্ধ।


নাগরিক সমাজ ও এনজিওগুলোর ওপর আরোপিত নজরদারি ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার।


রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বন্ধ ও তাদের চলাফেরা ও শিক্ষার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।


চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে অতীতের নিপীড়নের বিচার, মৃত্যুদণ্ড স্থগিত ঘোষণা, এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতা ও আইনি কাঠামো জোরদার করা জরুরি।


সংস্থাগুলো আইসিসির (আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত) চলমান তদন্তে বাংলাদেশের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করে এবং রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের পরামর্শ দেয়।


চিঠির শেষে তারা বলেন, “বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে এই মুহূর্তে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়াই সময়ের দাবি।