বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › অর্থনৈতিক খাতে চার বিষয়ে আপত্তি আইএমএফের, পরবর্তী কিস্তি স্থগিত রাখার ইঙ্গিত

অর্থনৈতিক খাতে চার বিষয়ে আপত্তি আইএমএফের, পরবর্তী কিস্তি স্থগিত রাখার ইঙ্গিত

favicon
অনলাইন সংস্করণ
অর্থনৈতিক খাতে চার বিষয়ে আপত্তি আইএমএফের, পরবর্তী কিস্তি স্থগিত রাখার ইঙ্গিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতে সরকারের নেওয়া চারটি বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব বিষয় হলো—আর্থিক নীতি, রাজস্ব খাতের সংস্কার ও এনবিআরের বিলুপ্তি, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার ক্রয়। এসব ইস্যু নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইএমএফ পরবর্তী কিস্তির অর্থ ছাড়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।


সংস্থাটি আরও উদ্বেগ জানিয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে কি না, তা অনিশ্চিত। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি দেখিয়ে বাজার থেকে ডলার কিনছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ। যদিও এর আগে কয়েক বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছিল।


অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সম্প্রতি পণ্য আমদানির এলসি খোলার হার বেড়ে যাওয়ায় ডলারের দাম আবারও বাড়ছে। গত সাড়ে তিন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার কিনেছে, যা নিয়েও আপত্তি তুলেছে আইএমএফ।


এ ছাড়া কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজস্ব খাতের সংস্কার যথাযথভাবে এগোচ্ছে না বলে মনে করছে সংস্থাটি।


আইএমএফ জানায়, নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হলে তাদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির বাকি কিস্তি অনুমোদন করা হবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি হওয়ায় আইএমএফের ঋণ না পেলেও তেমন প্রভাব পড়বে না।


অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে আরও ১০৪ মিলিয়ন ডলার কিনেছে। চলতি অর্থবছরে মোট কেনা ডলারের পরিমাণ প্রায় ২ বিলিয়ন।


আগামী ২৯ অক্টোবর আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল দুই সপ্তাহের সফরে ঢাকায় আসছে। এ সফরে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে। সফর শেষে দলটি ওয়াশিংটনে ফিরে গিয়ে একটি প্রতিবেদন দেবে, যার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশ পরবর্তী কিস্তি কবে পাবে।


উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন দেয়। পরবর্তীতে গত জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি অনুমোদনের সময় ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পেয়েছে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।


বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক উন্নতি হলেও নতুন বিনিয়োগ আসেনি। আইএমএফের আপত্তিগুলো নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য। ২৯ অক্টোবরের সফরে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে।”


অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আইএমএফের বেশিরভাগ শর্তই বাংলাদেশ পূরণ করেছে। তবে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বাড়ায় সংস্থাটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবুও রিজার্ভ সংরক্ষণ, ঋণ পরিশোধ ও কাঠামোগত সংস্কারে দেশটি গত এক বছরে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।