ভূমি সেবা সহজে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নাগরিক সেবা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ
দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নাগরিক সেবা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। তিনি বলেন, “ভূমি অফিসে মানুষ অনেক হয়রানির শিকার হন। তাই অনলাইনভিত্তিক ভূমি সেবার মাধ্যমে আমরা সেই হয়রানি কমাতে চাই।”
রবিবার (২৬ অক্টোবর) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘জনবান্ধব ভূমিসেবায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অটোমেটেড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ALAMS)।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী।
সিনিয়র সচিব বলেন, “জরিপ নিয়ে মানুষের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। ভূমি সংক্রান্ত মামলার প্রায় ৮০ শতাংশই জরিপকেন্দ্রিক। আমরা চাচ্ছি ঘরে বসে অনলাইন সেবা নিশ্চিত করতে, যাতে অফিসভিত্তিক হয়রানি বন্ধ হয়।”
তিনি আরও বলেন, “দেশজুড়ে ইতিমধ্যে ৮১৭টি ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু রয়েছে। এখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নাগরিক সেবা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে জনগণ সহজে ভূমি সেবা পান।”
অতিরিক্ত সচিব এমদাদুল হক চৌধুরী জানান, অনলাইনভিত্তিক সেবার ফলে রাজস্ব আদায় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৩৭৩ কোটি টাকা ভূমি উন্নয়ন কর আদায় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৮৬ কোটি টাকা।
তিনি আরও বলেন, “ডিজিটাল সেবার মূল লক্ষ্য হলো দুর্নীতি কমানো, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক সেবা সহজ করা। বর্তমানে ১৬১২২ নম্বর কল সেন্টারের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে দৈনিক গড়ে আড়াই হাজার কল গ্রহণ করা হয়।”
অতিরিক্ত সচিব আরও জানান, বর্তমানে দেশে ৬১ জেলায় ৮২০টি ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নাগরিকরা মাত্র ২৭০ টাকায় আবেদন করতে পারেন।
সেমিনারে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, উপসচিব সেলিম আহমদ ও আমজাদ হোসেন, এবং বিএসআরএফ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।