বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটে ভিসা আবেদন: সার্বিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়ায় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটে ভিসা আবেদন: সার্বিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়ায় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটে ভিসা আবেদন: সার্বিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়ায় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে ভিসার আবেদন করায় পূর্ব ইউরোপের দুটি দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সার্বিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়ার দূতাবাসগুলো এসব ভিসা আবেদনে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটের প্রমাণ পেয়েছে। ফলে দেশ দুটি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া বন্ধ করেছে।


দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, উত্তর মেসিডোনিয়ায় ভিসা আবেদনকারী প্রায় ৯০ শতাংশ বাংলাদেশির ওয়ার্ক পারমিট জাল পাওয়া গেছে। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। দুই মাস ধরে দেশ দুটি বাংলাদেশি নাগরিকদের কোনো ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করছে না। তবুও নিয়মিতভাবে ভুয়া পারমিট দিয়ে আবেদন জমা পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দূতাবাস।


সম্প্রতি উত্তর মেসিডোনিয়ায় মানবপাচারকারী একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও একজন সিলেটের বাসিন্দা। এ ঘটনা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকেও আলোচনা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—গ্রেপ্তারকৃতদের বিচার শেষে হয় কারাগারে পাঠানো হবে, নয়তো নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।


এদিকে সার্বিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়ার দূতাবাসে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটের পাশাপাশি সার্বিয়ার নকল স্টিকার ভিসা তৈরি করে প্রতারণা করছে কিছু দালাল চক্র। এতে একদিকে সাধারণ কর্মীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।


শ্রমিক ভিসায় বিদেশে পাঠাতে হলে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা ও বিএমইটি স্মার্ট কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রতারকরা ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ও নকল স্টিকার ভিসা ব্যবহার করে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। ফলস্বরূপ বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে গিয়ে ধরা পড়ছেন অনেক বাংলাদেশি যাত্রী।


এক প্রতারণার শিকার মাজেদুল ইসলাম জানান, “গত মে মাসে সার্বিয়ার শ্রমিক ভিসার জন্য আবেদন করি। দীর্ঘদিন আবেদনটি অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল। পরে এজেন্সি হঠাৎ আমার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে বলে, এক মাসের মধ্যে অনুমোদন ও স্টিকার ভিসা দেবে। এখন বুঝতে পারছি, সবটাই প্রতারণা ছিল।”


এ বিষয়ে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত উত্তর মেসিডোনিয়ার রাষ্ট্রদূত (বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত) স্লোবোডান উজনভ বলেন, “গত দুই মাস ধরে আমরা বাংলাদেশিদের কোনো ওয়ার্ক পারমিট দিচ্ছি না। তবুও ভুয়া পারমিট ব্যবহার করে আবেদন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি না বদলালে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।”