‘নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হবে বড় পরিসরে, সতর্ক থাকতে হবে’ :প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে বড় শক্তিগুলো নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “ছোটখাটো নয়, বড় শক্তি নিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হবে। হঠাৎ আক্রমণও আসতে পারে। এ নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে যত ঝড়ঝাপটা আসুক না কেন, আমাদের সেটা অতিক্রম করতে হবে।”
বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে প্রেসসচিব শফিকুল আলম বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রেসসচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা ‘আক্রমণ’ বলতে শুধু শারীরিক নয়, সাইবার আক্রমণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “দেশের ভেতর-বাইরে থাকা স্বৈরাচারী শক্তি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
বৈঠকে চারটি মূল বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়— সমাজমাধ্যমে ভুয়া তথ্য নিয়ন্ত্রণ, মাঠ প্রশাসনে নির্বাচনকালীন পদায়ন, নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রেসসচিব বলেন, যেসব কর্মকর্তার আগের তিনটি নির্বাচনে সম্পৃক্ততা ছিল, তাদের পদায়ন করা হবে না। পদায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, এসিএর প্রতিবেদন, রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও পারিবারিক সম্পর্ক বিবেচনা করা হবে। নিজ জেলা বা শ্বশুরবাড়ি এলাকায় পোস্টিংও দেওয়া হবে না।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ৯২ হাজার ৫০০ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন—এর মধ্যে ৯০ হাজার সেনা সদস্য এবং বাকিরা নৌবাহিনীর। প্রতিটি জেলায় একটি করে সেনা কম্পানি থাকবে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী, কারাবন্দি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভোট প্রদানের জন্য একটি বিশেষ অ্যাপও তৈরি হচ্ছে।
ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য মোকাবেলায় উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দুটি বিশেষ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কমিটিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ভুয়া তথ্য যাচাই করে ফ্যাক্ট চেক প্রকাশ করবে। এ কাজে আইসিটি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কারিগরি সহায়তা দেবে এবং ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হতে পারে। এআই প্রযুক্তিতে ছবি-ভিডিও তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। এসব মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি নির্বাচনী সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়ে বলেন, “মানুষকে ভোটের নিয়ম, কেন্দ্রের আচরণবিধি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে করণীয় সম্পর্কে জানাতে হবে। নির্বাচন কমিশন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে টিভিসি, ডকুমেন্টারি ও ভিডিও প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা।