অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন ও জুলাই জাদুঘর অধ্যাদেশে উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন
মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। নতুন আইনে পরিবারের সদস্য ছাড়াও ঘনিষ্ঠ বা আবেগীয় সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিদের নিঃস্বার্থভাবে কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৈঠক সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আইন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান আইনে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যরা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে পারেন, যা অনেক সময় বাস্তব প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। ফলে অনেকেই বিদেশে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের পথ বেছে নেন। নতুন আইনে এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে পরিবারের বাইরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিরাও যদি নিঃস্বার্থভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে চান, তা বৈধ করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আইন কার্যকর হলে দেশে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন সহজ হবে, ব্যয় কমবে এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশ নির্ভরতা হ্রাস পাবে।
এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদ **‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’**কেও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এ বিষয়ে অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, দেশের ইতিহাসে ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় যিনি গণহত্যার দায়ে বিচারাধীন, তার ব্যবহৃত বাসভবনকে জুলাই জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি জাতীয় জাদুঘরের কোনো শাখা নয়; বরং স্বতন্ত্র একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও জানান, এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানের ‘আয়নাঘর’গুলোতেও শাখা জাদুঘর হিসেবে জুলাই জাদুঘরের সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।