এনইআইআর বাস্তবায়নে ১০ লাখ মানুষের জীবিকা হুমকিতে: মোবাইল ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা
এনইআইআর বাস্তবায়নের ফলে দেশের মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় ২৫ হাজার প্রতিষ্ঠান ও ১০ লাখ মানুষের জীবিকা ঝুঁকিতে পড়বে বলে দাবি করেছে মোবাইল ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বিপণী বিতানের ব্যবসায়ীরা মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি, বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে বিটিআরসি কর্মকর্তাদের কাছে তাদের উদ্বেগের কথা জানান।
সংগঠনের সভাপতি মো. আসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিটিআরসির এক মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় বিটিআরসির সামনে ব্যবসায়ীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, এনইআইআর বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় খুচরা ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। ফলে আনুমানিক ৬০ শতাংশ আন-অফিসিয়াল বাজার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তারা বলেন, ২৬ বছরে গড়ে ওঠা এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসা ও ১০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। এনইআইআর হঠাৎ বাস্তবায়ন হলে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
ব্যবসায়ীদের মূল উদ্বেগ ও প্রস্তাবনা:
বাজার মনোপলি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ: এনইআইআর প্রক্রিয়ায় কিছু সিন্ডিকেট প্রভাব বিস্তার করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে, যা ভোক্তাকে উচ্চমূল্যে হ্যান্ডসেট কিনতে বাধ্য করবে।
বৈধ আমদানির সীমাবদ্ধতা: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করে এলসি খুলে আমদানি করতে চাইলেও সিন্ডিকেটের কারণে বর্তমানে তা কার্যত অসম্ভব।
অর্থনৈতিক ক্ষতি: বৈধভাবে আমদানি ও বিক্রির সুযোগ দিলে সরকার বছরে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে পারে। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় সেটি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
কর্মসংস্থান সংকট: সরাসরি প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার পরিবার এই খাতের ওপর নির্ভরশীল; হঠাৎ পরিবর্তনে তাদের জীবিকা বিপর্যস্ত হবে।
ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে সরকারকে বিভ্রান্ত করে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী বাজার নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। তারা দাবি করেন, সরকারের সিদ্ধান্ত যেন “স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার” না হয়।
ব্যবসায়ীদের দাবি:
১. এনইআইআর বাস্তবায়নের আগে আন-অফিসিয়াল ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
২. আমদানির লাইসেন্স ও এলসি প্রক্রিয়া সহজ করে সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
৩. সিন্ডিকেট ও অনৈতিক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যকর তদন্ত চালাতে হবে।
৪. সিদ্ধান্তের আগে নীতিনির্ধারণ বৈঠকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মতামত গ্রহণ করতে হবে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, “আমরাও বৈধভাবে কর দিতে চাই এবং সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় অংশ নিতে আগ্রহী। কিন্তু কোনো পক্ষের একক নিয়ন্ত্রণে বাজার গেলে ভোক্তা ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”