বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › আগামীকাল থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন, পর্যটকদের জন্য কঠোর ১২ নির্দেশনা

আগামীকাল থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন, পর্যটকদের জন্য কঠোর ১২ নির্দেশনা

favicon
অনলাইন সংস্করণ
আগামীকাল থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন, পর্যটকদের জন্য কঠোর ১২ নির্দেশনা

অবশেষে পর্যটকদের জন্য খুলে যাচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। আগামীকাল শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে পর্যটকরা দ্বীপে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।


গত বছরের মতো এবারও সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে সরকারের ১২টি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম বলেন,


“প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় কোনো ধরনের নির্দেশনা অমান্য করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এবার নিরাপত্তার কারণে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে টেকনাফ নয়, কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে।


বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক মহিবুল ইসলাম জানান,


“পর্যটকদের ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টাল থেকে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি টিকিটে কিউআর কোড ও ট্রাভেল পাস থাকবে, যা না থাকলে টিকিট অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।”


পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, গত ৯ মাস পর্যটক চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের পুনরুদ্ধার ঘটেছে। সৈকতে এখন আবার শামুক-ঝিনুক, লাল কাঁকড়া ও মা কাছিমের ডিম পাড়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।


পরিবেশ সংগঠন ইয়েস কক্সবাজারের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক বলেন,


“সীমিত পর্যটনই সেন্ট মার্টিনকে বাঁচাতে পারে। সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সময়োপযোগী।”


সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটকদের জন্য মূল ১২টি নিয়ম:

১. নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলা ভ্রমণ অনুমোদিত।

২. ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপন করা যাবে।

৩. ফেব্রুয়ারিতে সম্পূর্ণভাবে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকবে।

৪. প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন।

৫. রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি ও বারবিকিউ নিষিদ্ধ।

৬. কেয়াবনে প্রবেশ ও কেয়া ফল সংগ্রহ-বিক্রয় নিষিদ্ধ।

৭. কাছিম, শামুক-ঝিনুক, প্রবালসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৮. মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যান চলাচল বন্ধ।

৯. নিষিদ্ধ পলিথিন বহন নিষিদ্ধ।

১০. একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিরুৎসাহিত।

১১. ব্যক্তিগত পানির ফ্লাস্ক ব্যবহার উৎসাহিত।

১২. পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক।


পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট মার্টিনে প্রায় ১,০৭৬ প্রজাতির জীববৈচিত্র্য রয়েছে—প্রবাল, শৈবাল, কাছিম, রাজকাঁকড়া ও বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীসহ। নতুন নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অনুসরণ করা গেলে সরকার আশা করছে, সেন্ট মার্টিন আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব পর্যটন দ্বীপে পরিণত হবে।