বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › এক বছরের বেশি সময় পর বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার ইঙ্গিত, নতুন শর্তে বাড়ছে সিন্ডিকেটের আশঙ্কা

এক বছরের বেশি সময় পর বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার ইঙ্গিত, নতুন শর্তে বাড়ছে সিন্ডিকেটের আশঙ্কা

favicon
অনলাইন সংস্করণ
এক বছরের বেশি সময় পর বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার ইঙ্গিত, নতুন শর্তে বাড়ছে সিন্ডিকেটের আশঙ্কা

সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দীর্ঘ এক বছর ধরে বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও খুলতে যাচ্ছে। তবে নতুন করে দেওয়া ১০টি কঠোর শর্ত সিন্ডিকেটের পুনরুত্থানের আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।


সম্প্রতি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে চিঠি দিয়ে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠাতে বলেছে। এ সময় তারা ১০টি শর্ত সংযুক্ত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে — ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতা, অন্তত ৩ হাজার কর্মী প্রেরণের প্রমাণ, তিনটি ভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, এবং ১০ হাজার বর্গফুট আয়তনের স্থায়ী অফিস থাকা।


বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর দাবি, এই শর্তগুলো বাস্তবসম্মত নয় এবং এগুলোর মাধ্যমে আগের সিন্ডিকেটভুক্ত এজেন্সিগুলোকেই বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ৩ হাজারের বেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ পায়নি, ফলে নতুন শর্তে শুধুমাত্র পুরোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীই যোগ্যতা অর্জন করবে।


বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, “মালয়েশিয়ার দেওয়া বেশিরভাগ শর্তই অবাস্তব ও অযৌক্তিক। বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্সি করতে ১০ হাজার স্কয়ারফুটের অফিসের প্রয়োজন হয় না — মাত্র ৬০০ স্কয়ারফুটের অফিসেই অনুমোদন দেওয়া হয়। এমনকি মালয়েশিয়ার নিজের এজেন্সিগুলোরও এত বড় অফিস নেই। এটা শুধু সিন্ডিকেটকে বৈধ করার অপচেষ্টা।”


বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। গত এক বছরে শ্রমবাজার বন্ধ থাকায় নতুন করে কেউ যেতে পারেননি। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে সর্বশেষ কর্মী পাঠানো হয়, যা ২০২৩ সালের ৩১ মে পর্যন্ত চলেছিল।


উল্লেখ্য, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে মালয়েশিয়া ২০১৮ সালেও শ্রমবাজার বন্ধ করেছিল। পরে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নতুন চুক্তি সই হওয়ার পর ২০২২ সালের আগস্টে পুনরায় কর্মী পাঠানো শুরু হয় ১০০ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে।


অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শর্তগুলো কার্যকর হলে সিন্ডিকেট নির্ভর নিয়োগ প্রক্রিয়া আবারও ফিরে আসবে, যা কর্মী ও দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।


সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন