বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা আবারও দশম গ্রেড বেতনসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা আবারও দশম গ্রেড বেতনসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে

favicon
অনলাইন সংস্করণ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা আবারও দশম গ্রেড বেতনসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে

দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবির বাস্তবায়নে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে তারা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলন চলবে দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বলে জানিয়েছে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’।

অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (কাসেম–শাহীন) সভাপতি মো. আবুল কাসেম, সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ, সমন্বয়ক মোহাম্মদ আনোয়ার উল্যা এবং দেশের বিভিন্ন জেলা–উপজেলা থেকে আগত শত শত সহকারী শিক্ষক।

শিক্ষকরা জানান, দেশের সরকারি বিভিন্ন পদে সমমানের যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই দশম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন—যেমন পুলিশের এসআই, নার্স, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। অথচ সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী হলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এখনও ১১তম গ্রেডে রয়েছেন। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর এবার তারা দশম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ তিন দফা দাবিতে মাঠে নেমেছেন।

তাদের তিন দফা দাবি হলো—

১. সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ;

২. ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের সমস্যা সমাধান;

৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন দাবি জানানো সত্ত্বেও সরকারের আশ্বাস বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৭ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের প্রস্তাব পাঠালেও তা কার্যকর হয়নি এবং নবগঠিত পে-কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় শিক্ষক নেতারা পে-কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে কমিশন জানায়, গ্রেড পরিবর্তনের এখতিয়ার তাদের নয়, এটি সার্ভিস কমিশনের বিষয়।

এই অবস্থায় শিক্ষকরা পুরোনো দাবি পুনর্বহাল করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, “দাবি আদায়ে ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার শিক্ষক শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছেন। শিক্ষকদের সংখ্যা আরও বাড়বে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬৫,৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। গত ২৪ এপ্রিল প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডের শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সহকারী শিক্ষকদের দাবির প্রতিফলন ঘটেনি।

এর আগে ১৭ অক্টোবর শিক্ষকরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। কিছুদিন পরে তা স্থগিত করা হয়, কিন্তু শুক্রবার (৭ নভেম্বর) পুনরায় তারা অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যা শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে।