বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

favicon
অনলাইন সংস্করণ
আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন বিষয়ক গণভোট। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, “সব দিক বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হবে না, বরং এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী করে তুলবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণভোটের আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন উপযুক্ত সময়ে প্রণয়ন করা হবে। জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনযোগ্য প্রশ্নও ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশ্নটি হবে:

“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

প্রস্তাবগুলো হলো:

ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে।

খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট—দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে, এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন লাগবে।

গ) নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং স্থানীয় সরকারের বিকেন্দ্রীকরণসহ জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে গৃহীত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে নির্বাচিত দলগুলো বাধ্য থাকবে।

ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে।

গণভোটে ভোটাররা এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে মতামত জানাবেন।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, “পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করবে। সংস্কার শেষে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, যার মেয়াদ থাকবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।”