বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › ভোরের কাগজের অনলাইন এডিটরকে জিজ্ঞাসাবাদে নেওয়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ: ‘ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে জড়ানো ভিত্তিহীন’

ভোরের কাগজের অনলাইন এডিটরকে জিজ্ঞাসাবাদে নেওয়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ: ‘ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে জড়ানো ভিত্তিহীন’

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ভোরের কাগজের অনলাইন এডিটরকে জিজ্ঞাসাবাদে নেওয়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ: ‘ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে জড়ানো ভিত্তিহীন’

ভোরের কাগজের অনলাইন এডিটর মিজানুর রহমান সোহেলকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে জড়ানোর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।


বুধবার (১৯ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মিজানুর রহমান সোহেলকে তাদের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এর সঙ্গে বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভ্রান্ত প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য।


এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে মিথ্যা প্রচারণার বিষয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে অবৈধ হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণ করতে এনইআইআর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ নিয়ে বিটিআরসি সংক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে। তারপরও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে দায়ী করা হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।”


তিনি আরও জানান, সাংবাদিক মিজানুর রহমানের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বা পেশাগত সম্পর্ক নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজস্ব দায়িত্বে কাজ করেছে, এতে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার প্রশ্নই ওঠে না।


ডিবি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাড়ি ফিরেছেন সোহেল


এরই মধ্যে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিবির কর্মকর্তারা সোহেলকে তার বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন। বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে স্ত্রী সুমাইয়া সীমার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে মিজানুর রহমান সোহেল লিখেছেন, “বিনা অপরাধে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা ডিবি হেফাজতে থাকার পর আমাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কেন আমাকে আটক করা হলো—সেটা কেউই স্পষ্টভাবে জানাতে পারেনি।"


তিনি দাবি করেন, সরকারের একজন উপদেষ্টার ইশারায় মাত্র ৯ জন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর ‘মনোপলি সুবিধা’ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)-এর এনইআইআরবিরোধী প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করাই ছিল মূল লক্ষ্য।


সোহেলের অভিযোগ, সারাদেশে প্রায় ২৫ হাজার মোবাইল ব্যবসায়ীর স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, “৯ জন বিশেষ ব্যবসায়ীর স্বার্থেই পুরো বাজারকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এদের একজন সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার স্কুল-বন্ধু।”


শেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বললে সরকার কেন ভয় পায়? শুধুমাত্র একটি প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করতেই কি আমাকে গভীর রাতে তুলে নেওয়া হলো? এটাই কি দেশের বাকস্বাধীনতার বাস্তব চিত্র?”