বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › কৃষ্ণসাগরে মিসাইল হামলায় আগুনে পুড়ল চীনা ট্যাংকার ‘এমটি কায়রোস’; উদ্ধার চার বাংলাদেশি নাবিকসহ ২৫ জন

কৃষ্ণসাগরে মিসাইল হামলায় আগুনে পুড়ল চীনা ট্যাংকার ‘এমটি কায়রোস’; উদ্ধার চার বাংলাদেশি নাবিকসহ ২৫ জন

favicon
অনলাইন সংস্করণ
কৃষ্ণসাগরে মিসাইল হামলায় আগুনে পুড়ল চীনা ট্যাংকার ‘এমটি কায়রোস’; উদ্ধার চার বাংলাদেশি নাবিকসহ ২৫ জন

মিশরের সুয়েজ বন্দর থেকে রাশিয়ার নভোরোসিস্কে ক্রুড অয়েল বোঝাই করতে যাচ্ছিল ২৭৫ মিটার লম্বা চীনা ট্যাংকার ‘এমটি কায়রোস’। পথিমধ্যে কৃষ্ণসাগরের তুরস্কের জলসীমা অতিক্রম করার সময় ইউক্রেইনের ড্রোন বোট থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয় জাহাজটি।


মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দুই ঘণ্টার মাথায় ‘এমটি কায়রোস’কে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তুরস্কের কোস্ট গার্ড দ্রুত অভিযানে নামলে আগুনঘেরা জাহাজ থেকে ২৫ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়—যাদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি। বাকিরা চীনের ১৯ জন, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার একজন করে।


বাংলাদেশি চার নাবিক হলেন—চতুর্থ প্রকৌশলী মাহফুজুল ইসলাম, অয়েলার হাবিবুর রহমান, পাম্পম্যান আসগর হোসাইন এবং ডেক ক্যাডেট আল-আমিন হোসেন। সবাইকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তুরস্কের ইজমিত শহরে কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রাখা হয়েছে।


বাংলাদেশি প্রকৌশলী মাহফুজুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, বসফরাস প্রণালি পেরিয়ে কৃষ্ণসাগরে প্রবেশের পর স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৪টা ৫০ মিনিটের মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। প্রথমটি জাহাজের প্রপেলারে আঘাত করে, আর দ্বিতীয়টি ইঞ্জিন রুমের ফুয়েল ট্যাংকে আঘাত হানলে বিস্ফোরণ ছড়িয়ে পড়ে আগুন। জাহাজে আগুন লাগার পর দ্রুত তুরস্কের কোস্ট গার্ডকে সাহায্যের জন্য বার্তা পাঠানো হয়।


মাহফুজুল বলেন, “হামলার সময় মনে হচ্ছিল সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা ডেকে দাঁড়িয়ে থাকতেই আগুন আর বিস্ফোরণের শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। তবুও প্রাণে বেঁচে হাসপাতালে যেতে পেরেছি—এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি।”


ইউক্রেইনের দাবি, রাশিয়ার ‘ছায়া বহর’-এর অংশ হিসেবে ব্যবহৃত এই ট্যাংকার সামরিক অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে। একই দিনে আরও একটি ট্যাংকার ‘বিরাত’-এ হামলার খবর জানিয়েছে কিয়েভ। ইউক্রেইন বলছে, এসব হামলায় রাশিয়ার তেল পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে।


বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন জানান, “বাংলাদেশি চার নাবিক নিরাপদে আছেন এবং আমরা নিয়মিত তাদের খোঁজখবর রাখছি।”


হামলার পরও নাবিকদের মানসিক ভয় কাটেনি বলে জানা গেছে। তুরস্কের কোস্ট গার্ডকে তারা ‘ত্রাতা’ হিসেবে দেখছেন।