বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › পিলখানা হত্যাযজ্ঞ তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর, বহিঃশক্তি ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ

পিলখানা হত্যাযজ্ঞ তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর, বহিঃশক্তি ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ

favicon
অনলাইন সংস্করণ
পিলখানা হত্যাযজ্ঞ তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর, বহিঃশক্তি ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ

বিডিআর বিদ্রোহের নামে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গতকাল রবিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। কমিশনপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানসহ সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।


প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পিলখানার ঘটনাটি নিয়ে জাতি দীর্ঘদিন অজ্ঞতার মধ্যে ছিল। কমিশনের তদন্ত সত্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এই প্রতিবেদন ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান নথি হিসেবে থাকবে।


কমিশনপ্রধান জানান, ১৬ বছর আগের বহু আলামত ধ্বংস হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তি বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে তদন্ত কঠিন হলেও সর্বোচ্চ পেশাদারি বজায় রাখা হয়েছে। সাক্ষীদের দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়।


তিনি জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেনাবাহিনী কেন অভিযান পরিচালনা করেনি—এ প্রশ্নের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তৎকালীন সেনাপ্রধান কমিশনকে জানিয়েছেন যে অভিযানের ফলে প্রতিবেশী দেশের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা ছিল।


সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত এবং এর পেছনে রাজনৈতিক সমন্বয় ছিল। এছাড়া তৎকালীন সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত, কিছু স্থানীয় নেতার ভূমিকা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


কমিশন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, প্রশাসন ও পুলিশের জন্য বহুবিধ সংস্কার সুপারিশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বড় ধরনের ব্যর্থতা ছিল।


২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা সদর দপ্তরে সংঘটিত এই হত্যাযজ্ঞে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালকসহ ৫৮ জন সেনাসদস্য ও একজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী নিহত হন। পূর্বের তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা কয়েক বছর আগে থেকেই চলছিল এবং এতে বিপথগামী বিডিআর সদস্য ও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়।


কমিশনের মতে, ঘটনাটির পেছনে দেশীয় ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি একটি প্রতিবেশী দেশের স্বার্থও জড়িত থাকতে পারে—এ বিষয়ে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।