বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › দেশজুড়ে বেড়ে যাচ্ছে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা: অবৈধ অস্ত্র ও দুর্বল নজরদারিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা

দেশজুড়ে বেড়ে যাচ্ছে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা: অবৈধ অস্ত্র ও দুর্বল নজরদারিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা

favicon
অনলাইন সংস্করণ
দেশজুড়ে বেড়ে যাচ্ছে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা: অবৈধ অস্ত্র ও দুর্বল নজরদারিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া তৎপরতা বাড়ায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, পূর্ব শত্রুতা ও চাঁদাবাজিসহ নানা কারণে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


বিশেষ করে আদালত চত্বরের মতো নিরাপদ এলাকায়ও খুনের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত মাসেই ঢাকার আদালতপাড়ায় এক সন্ত্রাসীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।


সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জুরাইন এলাকায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক পাপ্পু শেখ (২৮) গুলিতে নিহত হন। তার পরিবারের দাবি, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাপ্পা ও তার সহযোগীরা পূর্বের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ ঘটনায় র‌্যাব–১০ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।


এর আগের দিন খুলনার আদালতপাড়ার সামনে শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সহযোগী হাসিব হাওলাদার (৪০) ও ফজলে রাব্বি রাজন (৩৫)-কে মোটরসাইকেলে বসে থাকার সময় মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এই হত্যায় সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সম্পৃক্ততা রয়েছে। খুলনা, ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম—দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের হামলা ঘটছে।


অবৈধ অস্ত্রই বড় হুমকি


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট সংঘটিত ঘটনার সময় দেশজুড়ে থানাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র লুট হয়। এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৪ হাজার ৪০৮টি, বাকিগুলো এখনও নিখোঁজ। এসব অস্ত্রের মধ্যে এসএমজি, অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল ও এলএমজি রয়েছে—যা নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি।


এদিকে সীমান্তের অন্তত ১৮-৩০টি পয়েন্ট দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দেশে ঢুকছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।


আন্ডারওয়ার্ল্ডের সক্রিয়তা


ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের সক্রিয় মাফিয়া চক্রগুলোর প্রভাবও বাড়ছে। ব্যাংকক থেকে ইমন ব্যাংক, দেশের বাইরে অবস্থান করে পিচ্চি হেলাল, মালয়েশিয়া থেকে সানজিদুল ইসলাম ইমন—এভাবে বিদেশ থেকে বিভিন্ন গ্রুপ রাজধানীর অপরাধচক্র পরিচালনা করছে। নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে খুনোখুনিও বেড়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতামত


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞানী ড. তৌহিদুল হক মনে করেন—


লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া,


কারাগার থেকে পালানো বা মুক্তিপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের ওপর নজরদারি না থাকা,


এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করা—

এসবই এই অপরাধ বৃদ্ধির মূল কারণ।


নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, এই সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক স্তরে দৃঢ় সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।


সূত্র: মানবজমিন